গরমে শরীর ও ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং পুষ্টি জোগাতে মরসুমি ফল আম অত্যন্ত কার্যকরী। এতে প্রায় ৮৩ শতাংশ জল থাকে, যা শরীরকে জলশূন্যতার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। আর তাই ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করা, বলিরেখা কমানো, রোদেপোড়া ভাব দূর করা এবং ব্রণ নিয়ন্ত্রণে আমের জুড়ি মেলা ভার। তাই শুধু পেটে কেন, ত্বকও আমের গুণমুগ্ধ হয়ে উঠুক।
ত্বকের যত্ন নিতে আমে ভরসা। ছবি: সংগৃহীত
নিজের রূপচর্চার রুটিনে পাকা আমকে কী ভাবে জায়গা করে দেবেন?
আম দিয়ে ৪ রকমের ফেসপ্যাক বানিয়ে নিতে পারেন। ত্বকের জেল্লা ফেরাতে, বার্ধক্যরোধে, ব্রণ দূর করতে এবং শুষ্কতা কমাতে ভিন্ন ভিন্ন উপাদান ব্যবহার করতে হবে। রইল সেই চার ফেসপ্যাকের প্রস্তুতপ্রণালী।
১. ২ টেবিল চামচ আমের শাঁস, ১ টেবিল চামচ মধু এবং ১ চা চামচ টক দই দিয়ে ব্লেন্ডারে মিহি করে পিষে নিন। ১৫-২০ মিনিট ত্বকে মেখে রাখুন। তার পর হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
২. ২ টেবিল চামচ আমের শাঁস, ১ চা চামচ আমন্ড অয়েল এবং ১ টেবিল চামচ দুধ মিশিয়ে নিন ভাল করে। দরকারে ব্লেন্ডার ব্যবহার করুন। সেই প্যাক মুখে মেখে নিন সমান ভাবে। ১৫ মিনিট রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
৩. ২ টেবিল চামচ আমের শাঁসের সঙ্গে ১ চা চামচ হলুদগুঁড়ো এবং ১ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি ভাল করে বেঁটে নিন। তার পরে ১০-১৫ মিনিট মেখে রেখে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
৪. ২ টেবিল চামচ আমের শাঁস, ১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা এবং ১ চা চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে নিন। এ বার সারা মুখে সমান ভাবে মেখে ২০ মিনিট রেখে দিন। তার পর হালকা গরম জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
আরও পড়ুন:
আম দিয়ে ত্বকচর্চার আগে কী কী মাথায় রাখবেন?
• ব্যবহারের আগে ভাল করে জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
• মুখে মাখার আগে অল্প আম নিয়ে কনুইয়ে মেখে দেখুন অ্যালার্জি বা অস্বস্তি হচ্ছে কি না।
• শুধু আম নয়, সঙ্গে প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে তবেই মুখে মাখবেন।
• নিয়মিত ব্যবহার করা দরকার, কিন্তু তা বলে অতিরিক্ত আম প্রয়োগও ভাল নয়।
• প্রতি বার নতুন করে ফেসপ্যাক বানিয়ে নিন। আগের দিনের বাড়তি উপাদান ব্যবহার করবেন না।
• প্রতি বার ফেসপ্যাক তোলার সময়ে ভাল করে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।
• ত্বকের আঘাত পাওয়া অংশে যেখানে জ্বালা হচ্ছে, সেখানে একেবারেই এই প্যাক মাখবেন না।