গরমের সময়ে লেবুর ভূমিকা অনবদ্য। তা সে লেবুর জল হোক বা শরবত, স্যালাড হোক বা ডাল-ভাত, লেবুর ঘ্রাণে গ্রীষ্মের অস্বস্তি যেন অর্ধেক কমে যায়। কিন্তু সমস্যা হল, বাজার থেকে কিনে আনার পর কয়েক দিন রেখে দিলেই অনেক সময় লেবু শুকিয়ে যায়, শক্ত হয়ে যায় বা রস কমে যায়। তখন কাটলেও আর ঠিক মতো রস বেরোয় না। তাই এখন অনেকেই এখন এমন উপায় খুঁজছেন, যাতে লেবু দীর্ঘ দিন টাটকা ও রসালো রাখা যায়।
রান্নাঘরের কিছু সহজ কৌশলেই এই সমস্যার সমাধান হতে পারে—
১. জলের পাশে: ফ্রিজে রাখার সময়ে এক বাটি জলের মধ্যে লেবু রেখে দেবেন। তাতে শুষ্ক হতে সময় নেবে লেবু। ফ্রিজের ভিতরে ফল ও শাকসব্জির ঝাঁপিতে রাখলে বরং দ্রুত শুকিয়ে যায়। কিন্তু পাত্রে জল ভরে তার মধ্যে ডুবিয়ে ফ্রিজে রাখলে লেবুর ভিতরের আর্দ্রতা বেশি সময় ধরে বজায় থাকে বলে মনে করেন অনেকে।
লেবু সংরক্ষণ করার কার্যকরী কৌশল। ছবি: সংগৃহীত
২. তেল মাখিয়ে: অল্প একটু নারকেল তেল মাখিয়ে নিতে হবে লেবুর গায়ে। তার পর ফ্রিজে রাখলে রস শুকিয়ে যাওয়ার গতি শ্লথ হয়ে যায়। তেলের পাতলা আস্তরণ বাইরের বাতাসের সংস্পর্শ কিছুটা কমিয়ে দেয় বলে মনে করা হয়।
৩. ঢাকা দিয়ে: এক বার লেবু কেটে ফেললে তা দ্রুত শুকিয়ে যায়। কাটা লেবু কখনও আঢাকা অবস্থায় ফ্রিজে রাখবেন না। তাতে রস দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। বায়ুরোধী পাত্র বা জ়িপ-ব্যাগে লেবু সংরক্ষণ করতে পারেন। এতে আর্দ্রতা কিছুটা বজায় থাকে।
৪. আলাদা রেখে: আলু, টম্যাটো এবং পেঁয়াজের মতো সব্জির সঙ্গে লেবু রাখবেন না। ওই দুই সব্জির গন্ধ মিশে যেতে পারে লেবুতে। পাশাপাশি এই সব্জিগুলি থেকে কিছু গ্যাস নির্গত হয়। আর সেই গ্যাসের সংস্পর্শে এলে লেবু জলদি পচে যেতে পারে।
৫. হাতে ঘুরিয়ে: লেবু থেকে রস বার করার আগে রান্নাঘরের কাউন্টার টপে রেখে হাতের তালুর চাপে ঘুরিয়ে নিতে হবে। এর ফলে লেবুর আঁশগুলি থেকে রস কিছুটা আলগা হয়ে যায়। তার পর রস বার করতে কোনও অসুবিধা হবে না।
৬. ফ্রিজ়ারে রেখে: লেবু যদি অতিরিক্ত পেকে গিয়ে থাকে, তা হলে অবশ্যই লেবুর রস বার করে ফ্রিজ়ারের বরফের ট্রেতে ভরে রাখবেন। তা হলে নষ্ট হওয়ার আগেই লেবু ব্যবহার করতে পারবেন, তা ছাড়া প্রয়োজন মতো যথেষ্ট রসও পেয়ে যাবেন।
আরও পড়ুন:
৭. কেনার সময়ে সতর্কতা: অনেকেই হলুদ, পেকে যাওয়া লেবু কিনে আনেন বাজার থেকে। ভাবেন, বেশি রস মিলবে। তবে এই ধরনের লেবু এই গরমে দ্রুত পচে যায়। তাই অল্প সবুজ রঙের লেবু কিনতে হবে, যাতে বেশি দিন সেটি সতেজ থাকে। ধীরে ধীরে পেকে গেলে ব্যবহার করতে পারবেন।