৩ মার্চ, ১৮ ফাল্গুন মঙ্গলবার ফাল্গুনী পূর্ণিমা এবং দোলযাত্রা। বাংলার দোল উৎসব ভগবান রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকেন্দ্রিক। দোল উৎসবের সূচনা হয় দোলের আগের দিন ন্যাড়াপোড়ার মধ্যে দিয়ে। পরবর্তী দিনে শ্রীকৃষ্ণ ও রাধিকার বিগ্রহে আবির দিয়ে দোল উৎসব পালন করা হয়। পালন হয় শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মোৎসবও।
দোল বা হোলি যে নামেই আমরা তা পালন করি না কেন, এই উৎসবের ধর্মীয় তাৎপর্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দোল কখনও শ্রীকৃষ্ণ এবং রাধিকাকেন্দ্রিক, কখনও বা বিষ্ণুভক্ত প্রহ্লাদকেন্দ্রিক, আবার কখনও ভগবান শিব এবং পার্বতীকেন্দ্রীক।
আরও পড়ুন:
ভাগবত পুরাণ অনুযায়ী– রাজা হিরণ্যকশিপু তাঁর বিষ্ণুভক্ত পুত্র প্রহ্লাদকে অগ্নিদগ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করেন তাঁর বোন হোলিকার সাহায্যে। কিন্তু সেই আগুনে হোলিকারই মৃত্যু হয়। অশুভ শক্তির বিনাশের উদ্দেশ্যে তাই হোলির আগের দিন হোলিকা উৎসব পালনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় হোলি উৎসব। হোলি উৎসব হিরণ্যকশিপু নিধন এবং বিষ্ণুভক্ত প্রহ্লাদকেন্দ্রিক অর্থাৎ ভগবান বিষ্ণুকেন্দ্রিক।
দক্ষিন ভারতে অন্য রকম– মহাদেবের প্রেমে ব্যাকুল দেবীপার্বতী মহাদেবকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে মহাদেবের ধ্যান ভাঙাতে প্রেমের দেবতা কামদেবের সাহায্য চান। কামদেব সম্মত হয়ে দেবাদিদেবের ধ্যান ভাঙ্গানোর চেষ্টা করেন। ধ্যান ভঙ্গের ফলে মহাদেব ক্ষিপ্ত হয়ে কামদেবকে ভস্মীভূত করেন। কামদেবের স্ত্রী রতি স্বামীকে ফিরে পেতে মহাদেবকে তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে কঠোর তপস্যা করেন। রতির তপস্যায় তুষ্ট হয়ে মহাদেব কামদেবের জীবন ফিরিয়ে দেন এই তিথিতেই।
আরও পড়ুন:
তবে ধর্মীয় ব্যাখ্যা যাই হোক না কেন, সামান্য কিছু পূজাঅর্চনা কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা আনতে পারে। প্রত্যেক মুহূর্তে গ্রহ এবং নক্ষত্রের অবস্থান অনুযায়ী শুভ বা অশুভ কোনও না কোনও যোগ সৃষ্টি হয়। ফাল্গুনের এই পূর্ণিমায় সংগঠিত হবে চন্দ্রগ্রহণ। শুভ তিথি বা শুভ যোগে পূজাআরাধনায় যেমন সুফল প্রাপ্তি হয়, অশুভ তিথি বা যোগে পূজাআরাধনায় অশুভ ফল নাশ বা হ্রাস হয়। সেই হিসাবে এই পূর্ণিমাতে সামান্য কিছু পূজা অর্চনা কিন্তু আপনার জীবনে শুভ ফল আনবে।
এই দিনে ভক্তিভরে রাধা-কৃষ্ণ, ভগবান বিষ্ণু এবং মহাদেবের উপাসনা প্রেম, বিদ্যা এবং আর্থিক সফলতা পেতে সাহায্য করবে।