সনাতন ধর্ম অনুযায়ী, কাককে নিয়ে বিভিন্ন রকম ধারণা প্রচলিত রয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, বাড়িতে কাক বসলে মঙ্গল এবং অমঙ্গল—সংসারে দুই ধরনেরই প্রভাব পড়ে। তবে তা নির্ভর করে পরিস্থিতি এবং কাকের আচরণের উপর। নীচে সেই দিকগুলি নিয়েই বিস্তারে আলোচনা করা হল—
অতিথির আগমন
বাড়ির বারান্দায় বা কার্নিশে বসে কাক ডাকলে মনে করা হয়, ঘরে কোনও প্রিয় অতিথি আসার সময় এগিয়ে আসছে।
আর্থিক উন্নতি
যদি কাক উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে মিষ্টি স্বরে ডাকে, তবে তা কর্মক্ষেত্রে প্রগতি এবং ধন-সম্পদ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
আরও পড়ুন:
বিপদ থেকে রক্ষা
কাককে যমরাজের দূত এবং শনিদেবের বাহন বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, কাক বাড়িতে বসলে তা কোনও বড় আসন্ন বিপদ কেটে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
অমঙ্গল দূর হওয়া
সনাতন ধর্মে মনে করা হয়, কাকের মাধ্যমে পিতৃপুরুষেরা অন্ন গ্রহণ করেন। তাই বাড়িতে কাক এলে তাকে খাবার (বিশেষ করে ভাত বা মিষ্টি) দিলে পিতৃপুরুষেরা আশীর্বাদ করেন এবং সংসারের অমঙ্গল দূর হয়।
তবে বাড়িতে কাক এসে বসার বিপরীত দিকও রয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাড়িতে কাক আসা অমঙ্গলের প্রতীক।
দক্ষিণ দিকে মুখ থাকা
কাক যদি বাড়ির ছাদ বা পাঁচিলে বসে দক্ষিণ দিকে মুখ করে অনবরত কর্কশ আওয়াজে ডাকতে থাকে, তবে তা অশুভ বলে মনে করা হয়। এটি কোনও খারাপ খবর আসা বা পরিবারের কারও অসুস্থতার সঙ্কেত হতে পারে।
আরও পড়ুন:
মাথায় এসে বসা
উড়ন্ত কাক যদি হঠাৎ বাড়ির ভিতরে ঢুকে কারও মাথায় এসে বসে বা স্পর্শ করে চলে যায়, তবে লোকবিশ্বাস অনুযায়ী এটিকে বড় কোনও সঙ্কটের লক্ষণ হিসাবে ধরা হয়।
মারামারি করা
বাড়ির উঠোনে বা ছাদে একাধিক কাক যদি নিজেদের মধ্যে মারামারি করে, তবে তা পরিবারে অশান্তি বা আইনি ঝামেলার ইঙ্গিত বহন করে।
ডানা ঝাপটানো
দুপুরের দিকে কাক বাড়িতে বসে ডানা ঝাপটালে বা ভয় পেয়ে চিৎকার করলে তা বাড়ির কোনও অমঙ্গলের পূর্বাভাস বলে মনে করা হয়।