জ্যোতিষশাস্ত্র এবং যোগবিজ্ঞানে মানুষের শরীর এবং মনের ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ১২টি রাশি মূলত অগ্নি, পৃথিবী, বায়ু এবং জল— এই চারটি উপাদানে বিভক্ত। রাশির এই উপাদান এবং স্বভাবের উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট কিছু যোগাসন অনুশীলন করলে শারীরিক এবং মানসিক শক্তি বহু গুণ বৃদ্ধি পায়। যোগাসনের মাধ্যমে শরীর ও মন সুস্থ করে তুলতে প্রতি বছর ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসাবে পালন করা হয়। রাশি অনুযায়ী কোন যোগাসনগুলি সবচেয়ে শুভ এবং লাভদায়ক, তা নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
মেষ রাশি
মেষ রাশির জাতক-জাতিকারা সাধারণত অত্যন্ত সাহসী এবং গতিশীল হন। তবে তাঁদের মধ্যে ক্রোধ এবং মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এঁদের ভিতরের অতিরিক্ত শক্তিকে সঠিক দিশা দিতে এবং মন শান্ত করতে বীরত্বপূর্ণ আসন প্রয়োজন। বীরভদ্রাসন এবং সূর্য নমস্কার এই আসনগুলি শরীরের শক্তি ও সহনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক একাগ্রতা ফিরিয়ে আনে।
বৃষ রাশি
বৃষ রাশির ব্যক্তিরা ধৈর্যশীল এবং কঠোর পরিশ্রমী হলেও অনেক সময় অলসতায় ভুগতে পারেন। এঁদের শরীর নমনীয় রাখা এবং জড়তা কাটানো প্রয়োজন। মনে করা হয়, বৃষ রাশির জাতক-জাতিকারা নিয়ম মেনে বৃক্ষাসন এবং মার্জারাসন অনুশীলন করলে তা শুভ ফল দেয়। বৃক্ষাসন মনে ভারসাম্য ও স্থিরতা আনে এবং মার্জারাসন মেরুদণ্ডকে নমনীয় করে অলসতা দূর করে।
মিথুন রাশি
মিথুন রাশির জাতক-জাতিকাদের মন সারা ক্ষণ চঞ্চল থাকে। অতিরিক্ত চিন্তার কারণে এঁরা প্রায়ই মানসিক ক্লান্তিতে ভোগেন। এঁদের শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। ভুজঙ্গাসন এবং প্রাণায়ম বিশেষত অনুলোম-বিলোম এই রাশির পক্ষে শুভ। এই আসনগুলি হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জীবনে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
কর্কট রাশি
কর্কট রাশির জাতক-জাতিকারা অন্তর্মুখী স্বভাবের হন। এঁরা বিভিন্ন ধরনের বিষয় নিয়ে নানা রকমের চিন্তাভাবনা করতে থাকেন। এই কারণে মানসিক উদ্বেগে ভোগার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এই রাশির পক্ষে পদ্মাসন, ভুজঙ্গাসন অথবা নটরাজাসন শুভ বলে মনে করা হয়। তা ছাড়া নিয়মিত অনুলোম-বিলোম করলেও লাভ হবে।
সিংহ রাশি
সিংহ রাশির জাতক-জাতিকাদের মধ্যে অনেক বেশি রাগ থাকে। অগ্নি তত্ত্বের রাশি হওয়ার কারণে সিংহ রাশির ব্যক্তিরা কখনও কখনও পেটের রোগে ভুগতে পারেন। এই রাশির পক্ষে মৎস্যাসন শুভ বলে মনে করা হয়। নিয়মিত সূর্য নমস্কার করলেও সুফল পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন:
কন্যা রাশি
কন্যা রাশির ব্যক্তিরা অত্যন্ত নিয়মানুবর্তী এবং খুঁতখুঁতে স্বভাবের হন। এঁদের হজমপ্রক্রিয়া বা পেটের সমস্যা প্রায়ই ভোগায়। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে এঁদের স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল হতে পারে। পশ্চিমোত্তানাসন এবং পবনমুক্তাসন এই রাশির পক্ষে শুভ। এই আসনগুলি শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে উদ্দীপিত করে পরিপাকক্রিয়া উন্নত করে এবং মানসিক ক্লান্তি দূর করে।
তুলা রাশি
তুলা রাশির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল ভারসাম্য। তবে মাঝে মাঝে এঁরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। কিডনি এবং কোমরের নীচের অংশ এই রাশির অধীনে থাকে। তাই শরীরে সামঞ্জস্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নটরাজাসন এবং গরুড়াসন এই রাশির পক্ষে শুভ। এই আসনগুলি শারীরিক এবং মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে দারুণ সাহায্য করে।
বৃশ্চিক রাশি
বৃশ্চিক রাশির জাতক-জাতিকারা অত্যন্ত রহস্যময় এবং তীব্র আবেগে ভরপুর হন। এঁদের তলপেটের অংশের উপর রাশির প্রভাব থাকে। ভিতরের নেতিবাচক শক্তি বা ক্ষোভ দূর করতে এঁদের জন্য বদ্ধকোণাসন এবং শলাভাসন শুভ। এটি তলপেটের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে।
ধনু রাশি
ধনু রাশির ব্যক্তিরা ভ্রমণপ্রিয়, স্বাধীনচেতা এবং আশাবাদী হন। এদের ঊরু ও নিতম্বের পেশিতে চোট লাগার প্রবণতা থাকে। তাই এই অংশের পেশি শক্তিশালী করা এবং মনকে শান্ত করা প্রয়োজন। ত্রিকোণাসন এবং কপোতাসন এই রাশির পক্ষে শুভ। এই আসনগুলি অনুশীলনের ফলে ঊরু ও কোমরের পেশি মজবুত হয় এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করে নতুন শক্তির সঞ্চার করে।
মকর রাশি
মকর রাশির জাতক-জাতিকারা অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং শৃঙ্খলাপ্রিয় হন। এই রাশির অধিপতি শনি হওয়ার কারণে এঁদের হাড় এবং জয়েন্ট পেশি বিশেষ করে হাঁটুতে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হাড়ের জোড় মজবুত করা এঁদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাড়াসন এবং উত্থিত হস্তপদাঙ্গুষ্ঠাসন এই রাশির পক্ষে শুভ। এই আসনগুলি হাড়ের গঠন সোজা রাখে এবং শরীরের পেশিকে টানটান ও শক্তিশালী করে তোলে।
আরও পড়ুন:
কুম্ভ রাশি
কুম্ভ রাশির ব্যক্তিরা প্রগতিশীল এবং চিন্তাশীল হন। এঁদের শরীরে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া এবং গোড়ালির উপর রাশির প্রভাব থাকে। রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে এবং গোড়ালি মজবুত করতে এঁদের উল্টো হয়ে করার আসনগুলি শুভ। এই রাশির পক্ষে সর্বাঙ্গাসন এবং সেতুবন্ধাসন শুভ। এই আসনগুলি সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে, মস্তিষ্ক শান্ত রাখে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সতেজ করে।
মীন রাশি
মীন রাশির জাতক-জাতিকারা অত্যন্ত কল্পনাপ্রবণ, আধ্যাত্মিক এবং দয়ালু হন। এঁদের পা এবং পায়ের পাতার উপর রাশির প্রভাব থাকে। মনকে বাস্তবের মাটিতে ধরে রাখতে এবং আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করতে এঁদের ধ্যানমূলক আসন করা উচিত। পদ্মাসন এবং শবাসন এই রাশির পক্ষে শুভ। পদ্মাসন মনকে গভীরভাবে শান্ত করে এবং শবাসন সম্পূর্ণ শরীর ও মনকে শিথিল করে পরম শান্তি প্রদান করে।