জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গল গ্রহকে সাহস, শক্তি, পরাক্রম এবং আত্মবিশ্বাসের কারক গ্রহ বলে মনে করা হয়। কোষ্ঠীতে মঙ্গল দুর্বল থাকলে কাজে বাধা, অতিরিক্ত রাগ অথবা ভাইবোনদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। মঙ্গল গ্রহের শুভ প্রভাব বাড়াতে এবং এই গ্রহের অবস্থান কুণ্ডলীতে মজবুত করতে জ্যোতিষশাস্ত্রে কিছু সহজ এবং কার্যকরী প্রতিকারের কথা বলা হয়েছে। নীচে সেই উপায়গুলি নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
হনুমানের পুজো
মঙ্গল গ্রহের অধিষ্ঠাতা দেবতা হলেন মহাবীর হনুমান। তাই মঙ্গলের কৃপা পেতে হনুমানজির আরাধনা সবচেয়ে ফলদায়ী। সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার নিয়ম মেনে উপবাস বা ব্রত রাখতে পারেন। এই দিনে নির্দিষ্ট সময়ে হনুমান চালিশা অথবা বজরংবাণ পাঠ করা অত্যন্ত শুভ। মঙ্গলবার হনুমানজির মূর্তিতে জুঁই তেল এবং সিঁদুর অর্পণ করলে মঙ্গলের অশুভ দশা কেটে যায়। হনুমানের মন্দিরে গিয়ে ভোগ নিবেদন করুন।
আরও পড়ুন:
মন্ত্র জপ
‘ওঁ ক্রাং ক্রীং ক্রৌং সঃ ভৌমায় নমঃ’— প্রতি দিন না হলেও অন্তত সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার শান্ত মনে এই মন্ত্র ১০৮ বার জপ করলে সুফল মিলতে পারে।
দান করা
জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহের শান্তি এবং শক্তির সঙ্গে দানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মঙ্গলের শক্তি বাড়াতে মঙ্গলবার লাল কাপড়, মুসুর ডাল, তামা এবং গুড় দান করতে পারেন।
ভাইবোনের সঙ্গে সুসম্পর্ক
জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গল গ্রহকে ভ্রাতৃকারক বলে মনে করা হয়। ভাইবোনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে মঙ্গল স্বয়ংক্রিয় ভাবেই শুভ ফল দিতে শুরু করে।
আরও পড়ুন:
লাল রঙের পোশাক
সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার লাল রঙের পোশাক পরিধান করুন। সেই রঙের পোশাক ব্যবহার করতে না পারলে অন্তত লাল রঙের রুমাল সঙ্গে রাখুন।
পরিশ্রম
মঙ্গল হল শক্তির প্রতীক। অলসতা ত্যাগ করে প্রতি দিন যোগব্যায়াম অথবা যে কোনও রকমের শরীরচর্চার সঙ্গে যুক্ত থাকলে মঙ্গলের ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি পায়।
রত্ন ধারণ
মঙ্গলের মূল রত্ন হল রক্তপ্রবাল। অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শ গ্রহণ করে সোনা অথবা তামার আংটিতে বসানো রক্তপ্রবাল ডান হাতের অনামিকায় ধারণ করতে পারেন। রত্ন ধারণ করতে না চাইলে জ্যোতিষীর পরামর্শ মেনে প্রতি মঙ্গলবার লাল সুতো বাহু অথবা কণ্ঠে ধারণ করা যেতে পারে।