E-Paper

পঞ্চনদের তীরে কংগ্রেসে গৃহদাহ

পঞ্জাবের অধিকাংশ কংগ্রেস নেতার দাবি ছিল, ভোটের আগে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে অমরিন্দর সিংহ রাজা ওয়ারিংকে সরানো হোক।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০৭:৪০

—প্রতীকী চিত্র।

সব ঠিক থাকলে পঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচনের আট মাস বাকি। আম আদমি পার্টি (আপ)-কে হটিয়ে এ বার কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু সেই ভোটের আগে কংগ্রেস হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পঞ্জাবের প্রদেশ কংগ্রেসে কার্যত বিদ্রোহ দেখা দিল।

পঞ্জাবের অধিকাংশ কংগ্রেস নেতার দাবি ছিল, ভোটের আগে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে অমরিন্দর সিংহ রাজা ওয়ারিংকে সরানো হোক। দলের অধিকাংশ নেতার দাবি ছিল, প্রদেশ সভাপতি করা হোক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিংহ চন্নীকে। প্রবীণ নেতা বিজয় ইন্দর সিঙ্গলা বা সুখজিন্দর সিংহ রণধাওয়া প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দৌড়ে ছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস হাইকমান্ড চন্নীকে নির্বাচনী প্রচার কমিটির প্রধান, সিঙ্গলাকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান এবং রণধাওয়াকে কোর কমিটির প্রধান নিয়োগ করে। প্রদেশ সভাপতি পদে রাজা ওয়ারিংকেই রেখে দেওয়া হয়। লোকসভার সাংসদ মণীশ তিওয়ারিকে আবার কোনও দায়িত্বই দেওয়া হয়নি।

এ নিয়ে মণীশ প্রথমেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। আজ পঞ্জাবে চন্নীর বাড়িতে অন্তত দু’ডজন বর্তমান ও প্রাক্তন বিধায়ক-সহ কংগ্রেসের প্রায় ৭০-৮০ জন নেতা জড়ো হন। বৈঠকের পরে দাবি তোলেন, কংগ্রেস হাইকমান্ডকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে হবে। নিজের শক্তি প্রদর্শনের পরে চন্নী বলেন, ‘‘কংগ্রেস নেতারা আমার বাড়িতে এসে দেখা করে তাঁদের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষার কথা হাইকমান্ডের সামনে তুলে ধরার অনুরোধ করেছেন।’’

চন্নীর নেতৃত্বে পঞ্জাবে যখন বিদ্রোহ হচ্ছে, ঠিক সেই সময় দিল্লিতে প্রবীণ সাংসদ সুখজিন্দর সিংহ রণধাওয়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁর অবশ্য দাবি, পঞ্জাবের বেশ কিছু জেলায় সন্ত্রাসবাদী ও গ্যাংস্টারদের কার্যকলাপ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। সেই প্রেক্ষিতেই এই বৈঠক। রণধাওয়া ও তাঁর পরিবারকে গ্যাংস্টাররা হুমকি দিচ্ছিল বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাদের দাবি। রণধাওয়া অবশ্য কংগ্রেস হাইকমান্ডের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর অসন্তোষের কথা লুকোননি। তাঁর বক্তব্য, এত বার বৈঠকের পরেও রাজ্যের নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক।

সব মিলিয়ে ভোটের আগে পঞ্জাব কংগ্রেসে ভাঙন ধরবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। আগেই কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়া রবনীত সিংহ বিট্টু কটাক্ষ করেছেন, ‘শোলে’ সিনেমায় জেলারের ভূমিকায় আসরানি বলেছিলেন, অর্ধেক ডানে, অর্ধেক বামে যাবে। বাকিরা তাঁকে অনুসরণ করবে। সেই আসরানির মতোই এখন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রাজা ওয়ারিংকে অনুসরণ করার মতোকেউ নেই।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Congress AAP

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy