Advertisement
E-Paper

মেঘমুলুকে ছোবল মারছে দূষণ! মেঘালয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বর্ষণবহুল মৌসিনরামে গড় বৃষ্টিপাত কমল গত এক দশকে

বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ, গত এক দশকে মৌসিনরামে বার্ষিক বৃষ্টি ১,৪০০ মিলিমিটার কমেছে! আগে মৌসিনরামে বার্ষিক বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ১০,২০০ মিমি। বিজ্ঞানীদের দাবি, এখন সেখানকার বার্ষিক বৃষ্টির পরিমাণ ৮,৮০০ মিমি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:০৭
বায়ুদূষণের ফলে মেঘালয়ের মৌসিনরাম এলাকায় বৃষ্টিপাত কমছে।

বায়ুদূষণের ফলে মেঘালয়ের মৌসিনরাম এলাকায় বৃষ্টিপাত কমছে। ছবি: সংগৃহীত।

পাহাড়ে ঘেরা ছোট্ট জায়গা। কিন্তু তার সৌন্দর্য, তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেয়। মেঘালয়ের মৌসিনরাম। পৃথিবীর আর্দ্রতম স্থান। কিন্তু বায়ুদূষণের ফলে ওই এলাকায় বৃষ্টিপাত কমছে!

বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ, গত এক দশকে মৌসিনরামে বার্ষিক বৃষ্টি ১,৪০০ মিলিমিটার কমেছে! আগে মৌসিনরামে বার্ষিক বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ১০,২০০ মিমি। বিজ্ঞানীদের দাবি, এখন সেখানকার বার্ষিক বৃষ্টির পরিমাণ ৮,৮০০ মিমি। কেন বৃষ্টির পরিমাণ কমল? ধুলো, জৈববস্তু পোড়ানো, বায়ুবাহিত কণা, যানবাহন থেকে নিষ্কাশিত কণা— এরোসলের পরিমাণ এক দশকে প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে!

বৃষ্টির জন্য মেঘ বানানোর প্রক্রিয়ায় এরোসল কণাদের যথেষ্টই ভূমিকা রয়েছে। ফি-বছরই গরমকালে ভারত-সহ দক্ষিণ এশিয়ার বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে জমা হয় জলীয় বাষ্প ও এরোসল কণা। কিন্তু এরোসল কণাদের উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়ার পরিমাণ যদি বায়ুমণ্ডলের অনেকটা উপরের স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেও পৌঁছে যায়, তা হলে বিপদ কিছুটা বেড়ে যায়।

এরোসল কী ভাবে পূর্ব খাসি পাহাড়ের মৌসিনরাম শহরের বৃষ্টিকে প্রভাবিত করছে, তা পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পের কারণে এই শহরে বৃষ্টি হয়। তবে দূষণ এই জলীয় বাষ্পের পথে বাধা সৃষ্টি করে। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে এমনটাই জানিয়েছেন নয়াদিল্লির জাতীয় ভৌত গবেষণাগারের প্রধান বিজ্ঞানী এবং এরোসল বিশেষজ্ঞ সুমিত মিশ্র। তিনিও এই গবেষণার অংশ ছিলেন।

২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সংগৃহীত এরোসলের পরিমাণ বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা। তার জন্য তাঁরা নাসার পৃথিবী-পর্যবেক্ষণ উপগ্রহে থাকা এক যন্ত্রের থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি বিশ্লেষণ করেছেন বৃষ্টিপাতের পরিমাণও। গবেষকদের মতে, গবেষণার সময়কালে তাঁরা দেখেছেন মৌসিনরামের উপর এরোসলের মাত্রা প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শীতকাল এবং প্রাক্‌-বর্ষায় বাতাসে এরোসলের পরিমাণ বেশি।

বায়ুদূষণকারী এই কণাগুলি বায়ুমণ্ডলের নিম্ন স্তরে তাপমাত্রা আটকে রাখে। এরোসলের ঘনত্ব বাড়লে তা প্রভাবিত করে বৃষ্টিকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যে বছরগুলিতে এরোসলের ঘনত্ব বেশি, সে সব বছরে ধারাবাহিক ভাবে কম বৃষ্টি হয়েছে। উষ্ণতার হার ০.৫ থেকে ০.০৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অতিরিক্ত উষ্ণতা মেঘ গঠনের প্রয়োজনীয় উপাদানের গতিকে দুর্বল করে দেয়। গবেষকদের মতে, এরোসলের ঘনত্ব বাড়লে মেঘ বেশি মাত্রায় ঘনীভূত হতে পারে না। ছোট ছোট মেঘ একত্রিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

অসমের তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানী প্রতিভা ডেকার এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, পশ্চিম গারো পাহাড়ে জৈববস্তু পোড়ানোর ফলে সূক্ষ্ম কণা দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। গারো পাহাড় এলাকার পরিবেশ পরিবর্তনে তা প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।

Air pollution Mawsynram meghalaya rainfall
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy