Advertisement
০৬ ডিসেম্বর ২০২২

কাশ্মীরে লাগাতার জেহাদের ডাক আল কায়দা প্রধান জ়াওয়াহিরির

কেবল কাশ্মীরকে প্রাধান্য দিয়ে এমন বার্তা প্রথম বলেই মনে করা হচ্ছে। ওই বার্তায় পাকিস্তানের সমালোচনাও করেছে জ়াওয়াহিরি।

এ ভাবেই ভিডিয়ো বার্তা দেয় জওয়াহিরি। ছবি: ভিডিয়ো গ্র্যাব।

এ ভাবেই ভিডিয়ো বার্তা দেয় জওয়াহিরি। ছবি: ভিডিয়ো গ্র্যাব।

সংবাদ সংস্থা
নয়াদিল্লি শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৯ ০১:৩২
Share: Save:

কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনী ও ভারত সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার জেহাদের ডাক দিল আল কায়দা প্রধান আয়মান আল জ়াওয়াহিরি। আজ তার ভিডিয়ো বার্তা নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে মার্কিন বিশেষজ্ঞ সংস্থা ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রাসিস’ (এফডিডি)। তাদের দাবি, আল কায়দার ‘আস শাবাব’ চ্যানেলের মাধ্যমে এই ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয়েছে। আগে বিভিন্ন বার্তায় কাশ্মীরের কথা উল্লেখ করেছে আল কায়দা। কিন্তু কেবল কাশ্মীরকে প্রাধান্য দিয়ে এমন বার্তা প্রথম বলেই মনে করা হচ্ছে। ওই বার্তায় পাকিস্তানের সমালোচনাও করেছে জ়াওয়াহিরি।

Advertisement

ভিডিয়ো বার্তায় জ়াওয়াহিরি বলেছে, ‘‘এখন কাশ্মীরে সক্রিয় মুজাহিদদের উচিত ভারতীয় সেনা ও সরকারকে ক্রমাগত আঘাত হানা। তাতে ভারতের অর্থনীতি, মানবসম্পদ ও যন্ত্রপাতির দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হবে।’’

হুরিয়ত নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে হিজ়বুল মুজাহিদিন ছেড়ে আলাদা সংগঠন গড়েছিল জ়াকির মুসা। তার সংগঠনকে আলাদা আলাদা ভাবে স্বীকৃতি দেয় আল কায়দা ও আইএস। পাকিস্তানি মদতে পুষ্ট লস্কর ই তইবার মতো সংগঠনগুলি দাবি করে, ওই সংগঠন আদতে দিল্লির মদতে তৈরি হয়েছে। কাশ্মীরের ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’কে ধ্বংস করার জন্য এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সম্প্রতি ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে মুসা। জ়াওয়াহিরি তার নাম না করলেও তার ভিডিয়ো বার্তায় মুসার ছবি দেখানো হয়েছে। জ়াওয়াহিরির বার্তার সঙ্গে মুসার সংগঠনের বর্তমান নেতা আব্দুল হামিদ লেলহারির বার্তার মিলও পেয়েছেন এফডিডি-র লেখক টমাস জোসেলিন।

Advertisement

জোসেলিন জানিয়েছেন, মুসা ও লেলহারি কাশ্মীরে সন্ত্রাসে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা স্বীকার করত। কিন্তু তারা মনে করত পাকিস্তানিরা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সাম্প্রতিক ভিডিয়ো বার্তায় জ়াওয়াহিরিরও বক্তব্য, ‘‘পাকিস্তানিরা মুজাহিদদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে। তার পরে তাদের ছুড়ে ফেলে দেয় বা তাদের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ করে।’’ তার মতে, ‘‘ভারত-পাকিস্তানের দ্বন্দ্ব আসলে সীমান্ত নিয়ে। তা মার্কিন গোয়েন্দারা নিয়ন্ত্রণ করে।’’ জ়াওয়াহিরির দাবি, ‘‘আফগানিস্তান থেকে রুশ বাহিনীকে তাড়ানোর পরে আরব মুজাহিদদের পাকিস্তান কাশ্মীরে যেতে দেয়নি।’’ জোসেলিনের অবশ্য দাবি, জ়াওয়াহিরির এ কথা ভিত্তিহীন। ১৯৯৮ সালে আফগানিস্তানে আল কায়দার কয়েকটি শিবিরে হামলা চালায় আমেরিকা। সেগুলির মধ্যে একটিতে যে পাক গুপ্তচর সংস্থা কাশ্মীরি জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল তার প্রমাণ পেয়েছিলেন মার্কিন গোয়েন্দারা।

ভিডিয়ো বার্তায় জ়াওয়াহিরির বক্তব্য, ‘‘কাশ্মীরের সংগ্রাম সারা বিশ্বে বিভিন্ন শক্তির বিরুদ্ধে মুসলিমদের লড়াইয়েরই অঙ্গ। কাশ্মীর, চেচনিয়া, সোমালিয়া, ফিলিপিন্স, ইরাক, সিরিয়ার মতো এলাকায় জেহাদের পক্ষে প্রচারের জন্য মুসলিম পণ্ডিতদের সক্রিয় হওয়া উচিত।’’ ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ভিডিয়োটি খতিয়ে দেখা হয়েছে। কাশ্মীরে এখন জঙ্গিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাচ্ছে। তাদের ঐক্যবদ্ধ করতেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.