কানপুরের কাছে রুড়ায় শিয়ালদহ-অজমেঢ় এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার পিছনে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ও মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের হাত ছিল। এমনটাই দাবি করেছিল বিহার পুলিশ। সেই ঘটনার মূল চক্রী আইএসআই এজেন্ট শামসুল হুদাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএ)-এর এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, দুবাইয়ের ব্যবসায়ী হুদাকে জেরার পর সেখান থেকে নেপালে নিয়ে আসা হয়। তার পর তাকে গ্রেফতার করে নেপাল পুলিশ।
আরও পড়ুন
এর আগে এই ঘটনায় বিহারের পূর্ব চম্পারণ জেলার মোতিহারি থেকে মোতি পাসোয়ান, উমাশঙ্কর প্রসাদ এবং মুকেশ যাদব নামে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গোয়েন্দারা জানিয়েছিলেন, ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)বিস্ফোরণ করে রেল লাইন উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল কানপুরে। এর আগে নভেম্বরে কানপুরের কাছে পুড়খাইয়া স্টেশনে ইনদওর-পটনা এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনাতেও একই গোষ্ঠীর হাত থাকতে পারে বলে ধারণা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের একাংশের।
পুলিশের দাবি, রেল লাইনে হামলার জন্য পাকিস্তানের ‘ডি-কোম্পানি’র মাধ্যমে দুবাইয়ে থাকা আইএসআই এজেন্ট শামসুল হুদার কাছে টাকা পৌঁছয়। পরে শামসুলের কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পায় নেপালে গা-ঢাকা দিয়ে থাকা আইএসআই এজেন্ট ব্রজকিশোর গিরি। শেষে তা পৌঁছয় মোতির হাতে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, এ বছরের গোড়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লখনউয়ের সভার আগের দিন কানপুরের কাছে ট্রেন লাইন ওড়ানো হবে। কিন্তু, সময়মতো নিরাপত্তারক্ষীরা সেখানে চলে আসায় গোটা পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। সম্প্রতি নেপাল পুলিশের সাহায্য নিয়ে সে দেশে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে ছিল আইএসআই এজেন্ট ব্রজকিশোর গিরি, শম্ভু ওরফে লড্ডু এবং মুহাজির আনসারি। এ বার মূল চক্রী শামসুল গ্রেফতার হওয়ায় তদন্ত অনেকটা এগোবে বলে তদন্তকারী গোয়েন্দাদের ধারণা।