বধর্মান বিস্ফোরণের পর থেকেই তার খোঁজ চলছিল। শেষ অবধি এক বছর দু’মাস ধরে পালিয়ে বেড়ানো এবং গোপনে জেহাদি কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার পরে ধরা পড়ল জামাতুল মুজাহিদিনের অন্যতম নেতা আশিক ওরফে বুড়াভাই। সেই সঙ্গে আরও পাঁচ জেহাদিকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ।
বড়োল্যান্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইজি এল আর বিষ্ণোই জানান, বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের পরে শাহনুর আলম-সহ ছয় জেহাদি এবং তাদের দুই সাহায্যকারীকে ধরেছিল পুলিশ। তখনই জানা গিয়েছিল নামনি অসমে ছড়িয়ে পড়েছে জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) তথা জেহাদিদের কার্যকলাপ। এই কাজের অন্যতম পান্ডা মহম্মদ মণিরুল ইসলাম ওরফে আশিক ওরফে বুড়াভাইকে অবশ্য ধরতে পারেনি পুলিশ।
কিছুদিন চুপ থাকার পরে, পুলিশের নজরদারি শিথিল হতেই জেহাদিরা ফের তাদের শিবিরগুলি সক্রিয় করে। চলতে থাকে অস্ত্র প্রশিক্ষণও। চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে চিরাং ও বাক্সা জেলার বিভিন্ন স্থানে হানা দিয়ে ১০ জন জেহাদিকে ধরে পুলিশ। তাদের কাছে মিলেছিল ১২টি হাতেগড়া এ কে-৪৭ ও ইনস্যাস রাইফেল। ১২ জোড়া জংলা পোশাক, জুতো, টুপি। ধৃতদের জেরা করে জানা যায় বুড়াভাইয়ের নেতৃত্বেই জেহাদিদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ চলছিল।
আগাম খবরের ভিত্তিতে গত রাতে ও আজ ভোরে পুলিশ এবং সিআরপি বাক্সা, গোয়ালপাড়া ও চিরাং জেলার বিভিন্ন স্থানে হানা দেয়। গত রাতে বাক্সার বরমা থেকে ধরা পড়ে মহম্মদ আনসার আলি, বরবাড়ি থেকে গ্রেফতার হয় ইক্রাম হুসেন, চিরাং জেলার চাপাগুড়ি থেকে ধরা পড়ে মহম্মদ আবদুল রেজ্জাক। রেজ্জাকের কাছ থেকে দেশি রিভলভার পাওয়া যায়।
এদের জেরা করে আজ ভোরে ছোট নিলিবাড়ি থেকে আশিককে পাকড়াও করা হয়েছে। সে তার সাদা দাড়ি কেটে আত্মগোপন করেছিল। আশিকের কাছে মেলে একটি রিভলভার। আশিকই পুলিশের একটি দলকে নিয়ে কোকরাঝাড়ের গোঁসাইগাঁও এবং গোয়ালপাড়া জেলার মায়া বাজারে যায়। ধরা পড়ে সাদ্দাম হুসেন ও মহম্মদ মকিবুল নামে আরও দুই জেহাদি। ঢালিগাঁওয়ের দাওখানঘর থেকে আরও একটি হাতেগড়া রাইফেলও উদ্ধার হয়েছে।