Advertisement
০২ ডিসেম্বর ২০২২

লোকসভায় ভোট আসবে কোথা থেকে? উনিশের বিপদই ভাবনা বিজেপির

পাঁচ রাজ্যের ভোটে মোদী আর ‘চাণক্য’ বলে পরিচিত তাঁর সেনাপতি অমিত শাহ কোথায় কোথায় ‘ডাহা ফেল’ করেছেন, তার ফিরিস্তিও শোনাচ্ছেন অনেকে।

বিজেপির অনেকেই মানছেন, গরিবদের জন্য ঘর, রান্নার গ্যাস দিয়ে যে প্রচার মোদী-শাহ করছিলেন, তা ডাহা ‘ফেল’।  ছবি: পিটিআই।

বিজেপির অনেকেই মানছেন, গরিবদের জন্য ঘর, রান্নার গ্যাস দিয়ে যে প্রচার মোদী-শাহ করছিলেন, তা ডাহা ‘ফেল’। ছবি: পিটিআই।

নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি শেষ আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৪:২৬
Share: Save:

পাঁচ রাজ্যে বিজেপির হারের পরে বিরোধী জোটের নেতা হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই বেড়ে গেল রাহুল গাঁধীর। আর নরেন্দ্র মোদীর একের পর এক অস্ত্র ভোঁতা হয়ে গেল। তা হলে উনিশের লোকসভা ভোটে কী হবে?

Advertisement

হতাশা ও ক্ষোভ এখন বিজেপির অন্দরেই।

সংসদ চত্বর জুড়ে বিজেপি নেতাদের মধ্যে আজ এটাই ছিল আলোচনার প্রধান বিষয়। পাঁচ রাজ্যের ভোটে মোদী আর ‘চাণক্য’ বলে পরিচিত তাঁর সেনাপতি অমিত শাহ কোথায় কোথায় ‘ডাহা ফেল’ করেছেন, তার ফিরিস্তিও শোনাচ্ছেন অনেকে। কেউ বলছেন, মোদী যাত্রা শুরু করেছিলেন ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ দিয়ে। কিন্তু ধীরে ধীরে জাত-পাতের বিভাজনের রাজনীতিতেও ঢুকে পড়ে দল। হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যে ‘নোটা’য় যে ভোট পড়েছে, তাতে স্পষ্ট, উচ্চবর্ণ ও ওবিসি-রা বিজেপিকে নিয়ে উৎসাহ দেখাননি। খুব বেশি দলিত-তাস খেলতে গিয়ে ভারসাম্য রাখতে পারেননি নেতৃত্ব। আবার দলিত-জনজাতিরও মন জয় করতে পারেনি দল।

বিজেপির অনেকেই মানছেন, গরিবদের জন্য ঘর, রান্নার গ্যাস দিয়ে যে প্রচার মোদী-শাহ করছিলেন, তা-ও ‘ফেল’। কারণ, শুধু উন্নয়ন দিয়ে ভোট হয় না। হলে অটলবিহারী বাজপেয়ী হারতেন না, দিল্লিতে শীলা দীক্ষিতও। বিজয় মাল্যকে ফিরিয়েও লাভ নেই। উল্টে প্রশ্ন উঠবে, পালাতে দিল কে? আর রোজগারের প্রতিশ্রুতিও রাখেননি মোদী, কৃষকদের দুরবস্থাও কাটেনি। আবার ভোটের প্রচারের আগে থেকেই মোদী যে ভাষায় নেহরু থেকে রাজীব ও রাহুল গাঁধীকে আক্রমণ করেছেন, মানুষ তা ভাল ভাবে নেয়নি। উল্টোদিকে রাহুলের ইতিবাচক প্রচার মানুষের মনে দাগ কেটেছে।

Advertisement

এত দিন মোদী-শাহ খোঁচা দিতেন, বিরোধী জোটের মুখ কে? হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্য ছিনিয়ে রাহুলই কার্যত মুখ হয়ে গিয়েছেন। মায়াবতী-অখিলেশ তাঁর পাশে আসার পরে উত্তরপ্রদেশেও শিরে সংক্রান্তি। ‘ফেল’ মন্দির-রাজনীতিও, রাহুলও এখন ‘হিন্দু’। তা হলে লোকসভায় ভোট আসবে কোথা থেকে? সেই প্রশ্ন বিজেপির অন্দরে। গেরুয়া শিবিরের নেতারা মানছেন, রাফাল দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে রাহুলের প্রচার সাড়া ফেলছে। সেই সঙ্গে বেগ বাড়াচ্ছে সিবিআইয়ের কোন্দল, উর্জিত পটেলের মতো ব্যক্তিদের পদত্যাগ। যা দেখাচ্ছে প্রশাসনেও রাশ নেই মোদীর। কেউ কেউ ইঙ্গিত দিচ্ছেন, অমিত শাহেরও নিয়ন্ত্রণ আলগা হচ্ছে দলে। তাঁর কথা শোনেননি বসুন্ধরা। মন্ত্রীদের বদলাননি শিবরাজ সিংহ চৌহানও।

এর পরে কী?

সেটাই ভাবাচ্ছে বিজেপিকে। নেতাদের বক্তব্য, সান্ত্বনা একটাই। এটি ছিল বিধানসভার ভোট, স্থানীয় ইস্যুতে। লোকসভায় ‘নরেন্দ্র মোদী’ নামক ব্র্যান্ডটি কাজে আসবে। কিন্তু তাঁর অস্ত্রই যদি ভোঁতা হয়, তা হলে উপায়? দলের এক নেতা বলেন, ‘‘হয় পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হবে নয়তো দেশবাসীর কাছে কল্পতরু হতে হবে আগামী ছ’মাসে।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.