উত্তর কাছাড় পার্বত্য পরিষদের পরের ভোটের দামামা কার্যত বাজিয়ে দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি রঞ্জিত দাস।
আজ হাফলং সাংস্কৃতিক ভবনে বিজেপির কর্মিসভায় রঞ্জিতবাবু পরিষদের ভোটের দিকে তাকিয়ে সবাইকে প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দেন। আগামী বছর এপ্রিলে একাদশ উত্তর কাছাড় পার্বত্য পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে। এখনও তার ভোটের এক বছরের বেশি সময় বাকি। রঞ্জিতবাবুর বক্তব্য, পরিষদের কয়েক জন সদস্য ক্ষমতাসীন দলকে ভাঙতে তৎপর। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন পার্বত্য পরিষদের মেয়াদ শেষের আগেই ভোটের পথে এগোতে পারে। তিনি বলেন, ‘‘কয়েক জন সদস্য পরিষদকে বাজার মনে করছেন। ক্ষমতার লোভে যখন তখন যে কোনও দলে গিয়ে যোগ দিচ্ছেন। এ সব বন্ধ করতে হবে। সে জন্য ভোট এগিয়েও আসতে পারে।’’
এ দিন থেকে দলের প্রত্যেক ব্লক, মণ্ডল ও বুথ লেভেল কমিটির কর্মী-নেতাদের ভোটের প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশ দেন রঞ্জিতবাবু। সে জন্য তৃণমুল পর্যায়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির কথা মানুষের সামনে তুলে ধরার নির্দেশও দেন। বিজেপি রাজ্য সভাপতির বক্তব্য, পরিষদের পরের নির্বাচনে তাঁরা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন। এ দিনের কর্মিসভার মঞ্চ থেকে পরিষদের দলত্যাগী বিজেপি সদস্যদের দলে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। এ দিন সকালে আবর্ত ভবনে পরিষদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সিইএম এবং ইএমদের সঙ্গে বৈঠক করেন রঞ্জিতবাবু। পরে জেলা যুবমোর্চার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, কর্মিসভার মাধ্যমে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের নির্বাচনের রণডঙ্কা বাজিয়ে দিল বিজেপি। স্থায়ী পরিষদ তৈরি হওয়ার পরই জেলার উন্নয়ন সম্ভব। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল পাহাড় ও সমতলে সমান বিকাশ চান। পাহাড়ি জেলাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়তে চান মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন বিজেপির কর্মিসভায় রাজ্য বিজেপির সম্পাদক (সংগঠন) ফণীন্দ্রনাথ শর্মা, রাজ্য বিজেপির যুবমোর্চার সহ-সভাপতি পলাশ লাহন, ডিমা হাসাও জেলা বিজেপির সভাপতি দেবেন থাওসেন, পরিষদের সিইএম দেবলাল গারলোসা, বিধায়ক বীরভদ্র হাগজার উপস্থিত ছিলেন।