E-Paper

হিন্দু ভোটার বাদ পড়বেন জেনেই এগিয়েছে বিজেপি

গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, এসআইআর হলে যে রাজ্যের হিন্দু ভোটের একাংশ সমস্যায় পড়তে চলেছে তা গোড়া থেকেই জানত বিজেপি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৩
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফাইল চিত্র।

বিবেচনাধীনদের (আন্ডার অ্যাজুডিকেশন) মধ্যে যোগ্য-অযোগ্যের তালিকা গত রাতে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজেপি সূত্রের দাবি, তাতে যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁদের মধ্যে আশি শতাংশের বেশি মুসলিম ভোটার। যাঁরা মূলত তৃণমূলকেই এত দিন ভোট দিয়ে এসেছেন। এঁদের নাম বাদ যাওয়ায় তৃণমূলের লড়াই আরও কঠিন হয়ে পড়ল বলেই দাবি করছে গেরুয়া নেতৃত্ব। আনুমানিক বাকি কুড়ি শতাংশ যে হিন্দু ভোটার বাদ গিয়েছেন, তাঁদের এক অংশ যে দলের ভোটার তা স্বীকার করে নিচ্ছে বিজেপি। যদিও দলের বক্তব্য, হিন্দু ভোটের একাংশ বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে রণনীতি সাজিয়েছে দল।

গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, এসআইআর হলে যে রাজ্যের হিন্দু ভোটের একাংশ সমস্যায় পড়তে চলেছে তা গোড়া থেকেই জানত বিজেপি। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে আসা মতুয়া ও নমঃশূদ্র সমাজ যারা মূলত বিজেপির ভোট ব্যাঙ্ক, তাদের উপর আঘাত আসবে তা ভালই বুঝতে পেরেছিল দল। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘ভোটার তালিকায় তৃণমূল যে বেনোজল ঢুকিয়ে রেখেছিল, তা দূর করতে এ ছাড়া উপায় ছিল না।’’ দলের বক্তব্য, তাই এসআইআর হলে যে কয়েক লক্ষ হিন্দু ভোটের সমর্থন পাওয়া যাবে না তা বুঝেই আগাম পরিকল্পনা করে লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত নেয় দল।

এসআইআর-এর তিন পর্বে নদিয়া থেকে প্রায় ৫ লক্ষ (৪.৮৭ লক্ষ) ভোটার বাদ পড়েছে। বিজেপির দাবি, এঁদের মধ্যে অন্তত তিন লক্ষ মুসলিম। বাকিরা হিন্দু। দলের বক্তব্য, গোটা রাজ্যের মধ্যে সবথেকে বেশি হিন্দু নাম সম্ভবত বাদ পড়েছে নদিয়ায়। এঁরাই লোকসভায় বিজেপিকে ঢেলে ভোট দিয়েছিলেন। দলের ব্যাখ্যা, ওই জেলায় অনেক হিন্দু ২০০২ সালের পরে বাংলাদেশ থেকে এ দেশে পালিয়ে আসেন। ফলে তাঁদের নাম বাদ গিয়েছে। প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় স‌ংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে হাতিয়ার করে দ্রুত নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টাও কার্যকর হয়নি। ফলে নদিয়ার মতো সীমান্তবর্তী বেশ কিছু জেলাতে হিন্দু ভোটারদের বাদ যাওয়াকে মাথায় রেখেই রণনীতি সাজাতে হয়েছে বিজেপিকে।

উল্টো দিকে বিজেপির দাবি, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় ওই দুই জেলায় বাদ পড়াদের ৯০ শতাংশ মুসলিম। তা ফলাফলে প্রভাব ফেলবে বলেই আশাবাদী বিজেপি। দলের ব্যাখ্যা, একটি বিধানসভার প্রতিটি বুথে গড়ে ৫০টি করে ভোট কমলেই, ওই কেন্দ্রের আওতায় ২০০টি বুথে মোট দশ হাজার ভোট কমবে তৃণমূলের। শুধুমাত্র তা হলেই গতবারের চেয়ে অন্তত ৪০টি আসন বেশি পাবে দল, দাবি এক বিজেপি নেতার। তাঁর মতে, সরকার গঠনের পরিস্থিতি তৈরি হবে।

পাকিস্তান সম্প্রতি কলকাতায় হামলা চালানোর কথা বলে হিন্দু ভোট মেরুকরণের সুবিধা করে দিয়েছে বলেই মনে করছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাই পাকিস্তান বিরোধিতাকে সামনে রেখে দেশাত্মবোধের হাওয়া তোলার কৌশল নিয়েছে বিজেপি। আজ এ প্রসঙ্গে ব্যারাকপুরে প্রচারের মঞ্চ থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ বলেন, "১৯৭১-এ বাংলার দিকে নজর দেওয়ার চেষ্টা করে দু’টুকরো হয়েছিল পাকিস্তান। এই বারে সেই বাংলার দিকে নজর তোলার দুঃসাহস পাকিস্তান করলে, কত টুকরো হবে, সেটা ঈশ্বরই জানেন। এআমি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসাবে বলছি। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই ধরনের উস্কানিমূলক কথা বলাউচিত নয়।"

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy