কেরলের শবরীমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি মেয়েদের প্রবেশাধিকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে কেন্দ্র বলেছে, পিতৃতন্ত্র এবং লিঙ্গভিত্তিক আদলের ধারণা পশ্চিমি দুনিয়া থেকে এসেছে। যা ভারতীয় সভ্যতার অন্তর্নিহিত নয়, তার দ্বারা ভারতীয় ধর্মবিশ্বাসকে বিচার করা উচিত নয়।
শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী হওয়ার যোগ্য বয়সের মেয়েদের প্রবেশাধিকার বারণ ছিল। এই নিয়ে মামলা হলে ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট তার ঐতিহাসিক রায়ে প্রাচীন এই প্রথাকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে এই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন হয়েছে। মঙ্গলবার সেই শুনানিতেই কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য তুলে ধরেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
মেহতা বলেন, ভারতের ইতিহাসে নারীদের শুধু সমদৃষ্টিতে দেখাই হয়নি, বহু ক্ষেত্রে উচ্চাসনে বসানো হয়েছে। এখনকার আলোচনায় পিতৃতন্ত্র বা লিঙ্গভিত্তিক স্টিরিয়োটাইপ (আদল) সংক্রান্ত যা কিছু বলা হচ্ছে, সেগুলো বাইরে থেকে আমদানি করা। ভারতীয় সভ্যতার অংশ নয়। মেহতার কথায়, “সম্ভবত আমরাই একমাত্র সমাজ, যেখানে নারীদের পূজা করা হয়।” লিখিত বক্তব্যে কেন্দ্র বলেছে, শবরীমালায় প্রবেশাধিকার নিয়ে যে বিধিনিষেধ আছে, তা লিঙ্গবৈষম্যের কারণে নয়। নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাস ও দেবতার স্বরূপের সঙ্গে এটি সম্পর্কিত। ভগবান আয়াপ্পাকে চিরকুমার হিসাবে মানা হয় বলেই ঋতুমতী নারীর প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর সঙ্গে নারীকে অপবিত্র মনে করার সম্পর্ক নেই।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)