ছত্তীসগঢ়ের পাঁচটি পুরসভায় ভোট ও কয়েকটি পুরসভার উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে কড়া টক্কর দিল কংগ্রেস! যদিও শেষপর্যন্ত ‘হাত’-এর তুলনায় সামান্য এগিয়ে থেকে বেশি সংখ্যক নগর পঞ্চায়েত চেয়ারপার্সন পদ এবং কাউন্সিলর আসন জিতেছে ‘পদ্ম’। বিধানসভা ভোটের দেড় বছর আগে সদ্য ‘মাওবাদীমুক্ত’ আদিবাসী রাজ্যে কংগ্রেসের এই প্রত্যাবর্তন ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
ছত্তীসগঢ়ের নবগঠিত পাঁচটি নগর পঞ্চায়েত এবং কিছু পুরসভার শূন্য ওয়ার্ডগুলির জন্য ১ জুন ভোটগ্রহণ হয়েছিল। ভোটদানের হার ছিল ৮৪.৫৮ শতাংশ। শুক্রবার রাজ্য নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফল বলছে, শাসকদল বিজেপি পাঁচটি নগর পঞ্চায়েত চেয়ারপার্সন পদের মধ্যে তিনটিতে জিতেছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস দু’টিতে। বিজেপি জয়ী হয়েছে জঞ্জগীর-চম্পা জেলার বামহনিডি, সুরজপুর জেলার শিবানন্দনপুর এবং কবীরধাম জেলার সাহসপুর-লোহারা নগর পঞ্চায়েতে। কংগ্রেসের দখলে গিয়েছে রাজনন্দগাঁও জেলার ঘুমকা এবং বালোড জেলার পালারি নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারপার্সন পদ।
আরও পড়ুন:
ভোট হওয়া ৭১টি কাউন্সিলর আসনের মধ্যে ৩৯টিতে বিজেপি জিতেছে। কংগ্রেস ৩০টিতে। নির্দল প্রার্থীরা ২টি ওয়ার্ডে জিতেছেন। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ছত্তীসগঢ়ের ১১টি আসনের মধ্যে ১০টি জিতেছিল বিজেপি। কংগ্রেস মাত্র একটিতে। তার আগে ২০২৩ সালের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস সরকারের পতন ঘটিয়ে ৯০টি আসনের মধ্যে ৫৪টিতে জিতে রায়পুরের কুর্সি কব্জা করেছিল ‘পদ্ম’। দু’টি ভোটেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘মাওবাদীমুক্ত ছত্তীসগঢ়ে’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গত দু’বছরে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মাওবাদী নির্মূল করা হয়েছে উপদ্রুত বস্তার ডিভিশনে। শাহের দেওয়া সময়সীমা মেনে গত ৩১ মার্চ ‘মাওবাদীমুক্ত’ হয়েছে ছত্তীসগঢ়। ঘটনাচক্রে, তার পরেই পুরভোটে ধাক্কা খেল বিজেপি।