×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০২ অগস্ট ২০২১ ই-পেপার

নড্ডার উপর হামলার সেই পথেই বিজেপি চাইছে পরিবর্তনের রথযাত্রা নিয়ে যেতে

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১০:২৭
শিরাকোলে হামলার মুখে পড়েছিল নড্ডার কনভয়।

শিরাকোলে হামলার মুখে পড়েছিল নড্ডার কনভয়।

যে পথে বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডার কনভয় হামলার মুখে পড়েছিল, সেই পথ ধরেই নিজেদের ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র রথ নিয়ে যেতে চায় বিজেপি। বৃহস্পতিবার ডায়মন্ড হারবারে কলকাতা জোনের বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

গত বছর ১০ ডিসেম্বর ডায়মন্ড হারবারে দলীয় কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে শিরাকোলে হামলার মুখে পড়েছিল নড্ডার কনভয়। ‘পরিবর্তন যাত্রা’-য় সেই শিরাকোলকেই বেছে নিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের মতে, শিরাকোলে নড্ডার কনভয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছিল তৃণমূল। তাই ওই পথ দিয়েই আসুক রথ। বিজেপি সূত্রের খবর, আগামী সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি সাগরের কপিল মুনির আশ্রম থেকে কলকাতা অভিমুখে যাত্রা শুরু করবে ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র রথ। প্রথমে সাগর থেকে রথ আসবে কাকদ্বীপে। সেখানে একটি জনসভা হওয়ার কথা। তারপর কাকদ্বীপ থেকে রথযাত্রা যাবে ডায়মন্ড হারবার-শিরাকোল হয়ে বারুইপুরের দিকে। বারুইপুর থেকে রথ আসবে কলকাতায়।

যাত্রাপথে শিরাকোলকে বেছে নেওয়ার কারণ হিসাবে দু’টি পরিকল্পনা জানাচ্ছেন বিজেপি নেতৃত্ব। প্রথমত, যেহেতু ওই অঞ্চলে নড্ডার উপর হামলা হয়েছিল এবং সেই হামলার তির ছিল তৃণমূলের দিকে, তাই তার প্রত্যুত্তরে সেখানে নিজেদের শক্তিপরীক্ষা করে নিতে চাইছে দল। ওই অঞ্চলে রথযাত্রা ‘সফল’ হলে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছবে কর্মীদের কাছে। দ্বিতীয়ত, বিজেপি চায় পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসন ছুঁয়েই যাক রথযাত্রা। শিরাকোলের পথ ধরলে কলকাতা জোনের অন্তর্গত সমস্ত বিধানসভাগুলি সহজেই ছুঁয়ে ফেলা যাবে। কোনও বিধানসভা এলাকা বাদ যাবে না। তা ছাড়া কলকাতা দিকে আসার জন্য অন্য রাস্তার চেয়ে শিরাকোলের রাস্তাটি তুলনামূলক চওড়া। তাই ওই অঞ্চল দিয়ে রথ আনলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হবে।

Advertisement

তবে শিরাকোল দিয়ে রথ এলে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে স্থানীয় প্রশাসন। তাই প্রশাসনের তরফে বিকল্প পথের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিজেপি নেতারা ওই পথেই রথ আনতে অনড়। প্রয়োজনে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই রথ আসবে বলে জানাচ্ছেন বিজেপি-র কলকাতা জোনের সহ-আহ্বায়ক শঙ্কুদেব পণ্ডা। তিনি বলেন, ‘‘ওই পথে রথযাত্রা করতে প্রশাসন অনুমতি না দিলেও আমরা সেখান দিয়েই রথ নিয়ে আসব। বাধা দিলে বুঝতে হবে আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে পারছে না প্রশাসন। তার দায় রাজনৈতিক দলের নয়।’’

শনিবার নবদ্বীপ থেকে রথযাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। ওই রথযাত্রার উদ্বোধন করবেন নড্ডা। সেই মতো শুক্রবার রাতেই রাজ্যে আসার কথা বিজেপি সভাপতির। এরপর সোমবার সাগর ও কোচবিহার এবং মঙ্গলবার তারাপীঠ ও ঝাড়গ্রাম থেকে রথযাত্রা শুরু করার কথা। বিজেপি সূত্রে খবর, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে মন্ত্রীরা— অনেকেই থাকবেন রথযাত্রা কর্মসূচিতে। আগামী সপ্তাহের বুধ এবং বৃহস্পতিবার রাজ্য সফরে আসার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। তিনিও রথযাত্রায় অংশ নিতে পারেন।

Advertisement