উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার পর এ বার বেঙ্গালুরু। পণের জন্য বধূকে হত্যার অভিযোগ উঠল। মৃতার নাম শিল্পা পঞ্চঙ্গমথ। তিনি বেঙ্গালুরুর একটি নামী তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। বৃহস্পতিবার ঘর থেকে শিল্পার দেহ উদ্ধার হয়েছে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, পণের জন্য শারীরিক এবং মানসিক ভাবে নির্যাতন করা হত শিল্পাকে। তাঁকে খুন করা হয়েছে। খুন না আত্মহত্যা, বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে ঘর থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
গ্রেটার নয়ডার নিকি যাদব হত্যাকাণ্ড নিয়ে যখন শোরগোল চলছে, সেই সময় আবার পণের জন্য হত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে এল। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রবীণের সঙ্গে শিল্পার বিয়ে হয়েছিল তিন বছর আগে। তাঁদের দেড় বছরের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। প্রবীণও এক জন সফ্টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তবে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে সম্প্রতি ফুচকার ব্যবসা শুরু করেন। কর্নাটকের হুব্বলি জেলার বাসিন্দা শিল্পা। তিনি একটি নামী তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। পরিবার সূত্রে খবর, অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন শিল্পা।
শিল্পার কাকা চান্নাবাসায়ার অভিযোগ, তাঁর ভাইঝি আত্মহত্যা করতে পারেন না। তাঁকে খুন করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘বিয়ের পর থেকে নানা রকম ভাবে শিল্পাকে হেনস্থা করা হত শ্বশুরবাড়িতে। অশান্তির জেরে শিল্পা বাপের বাড়িতে চলে এসেছিল। চার মাস আগে সেই সমস্যা মিটিয়ে শিল্পাকে আবার ফেরত পাঠানো হয়। বুধবার প্রবীণ জানায় কাজের জন্য বাইরে যেতে হবে। তার পরই খবর পাই শিল্পা আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু যে ভাবে ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয়েছে, আমরা নিশ্চিত ওকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’
তিনি আরও জানিয়েছেন, ৪০ লক্ষ টাকায় বাড়ি বিক্রি করে শিল্পার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি ১০ লক্ষ টাকা নগদ দেওয়া হয়েছিল প্রবীণকে। নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার বলে পরিচায় দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরে জানা গিয়েছে ফুচকার ব্যবসা রয়েছে। প্রবীণ এবং তাঁর মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কিছু দিন আগেই গ্রেটার নয়ডায় নিকি ভাটি নামে এক বধূকে পুড়িয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় চার জন গ্রেফতার হয়েছেন।