Advertisement
E-Paper

স্বামীকে খুনের পর মেঝে খুঁড়ে পুঁতে দেন স্ত্রী! সন্দেহ এড়াতে টাইল্‌স বসান, ৪৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর আগরায় উদ্ধার দেহ

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম সুরেন্দ্রকুমার শর্মা। তিনি আগরার সিকন্দরা থানা এলাকার প্রাচী টাওয়ার চৌকি এলাকায় থাকতেন। গত ১৮ মে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ১১:৫৮
(বাঁ দিকে) সুরেন্দ্র কুমার শর্মা। (ডান দিকে) এই বাথরুমের মেঝে খুঁড়ে উদ্ধার হয় দেহ। ছবি: সংগৃহীত।

(বাঁ দিকে) সুরেন্দ্র কুমার শর্মা। (ডান দিকে) এই বাথরুমের মেঝে খুঁড়ে উদ্ধার হয় দেহ। ছবি: সংগৃহীত।

৪৫ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন যুবক। পরিবারের লোকজন হন্যে হয়ে খুঁজেও তাঁর হদিস পাচ্ছিলেন না। নিখোঁজ ডায়েরিও করেন স্ত্রী। সকলে যখন ঘটনাটিকে নিরুদ্দেশ বলে মানতে শুরু করেছিলেন, তখন একটি সন্দেহই গোটা ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। জানা গেল, নিরুদ্দেশ বা নিখোঁজ নয়, যুবককে খুন করা হয়েছে। আর সেই খুনের অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধেই। উত্তরপ্রদেশের আগরার এই ঘটনাই স্মৃতি উস্কে দিয়েছে মেরঠের সৌরভ রাজপুত হত্যাকাণ্ড, মেঘালয়ের রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ড এবং সম্প্রতি পুণের কেতন অগ্রবালের হত্যার ঘটনার।

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম সুরেন্দ্রকুমার শর্মা। তিনি আগরার সিকন্দরা থানা এলাকার প্রাচী টাওয়ার চৌকি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত ১৮ মে আচমকা নিখোঁজ হয়ে যান। সুরেন্দ্রের আচমকা নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁর বাড়ির লোকেরা। স্ত্রী রুবিকে যখন পড়শিরা জিজ্ঞাসা করতেন, তখন তিনি তাঁদের কাছে দাবি করতেন যে, সুরেন্দ্র কয়েক দিনের জন্য বাইরে গিয়েছেন। শীঘ্রই বাড়ি ফিরে আসবেন। শ্বশুরবাড়ির লোকেদের কাছেও একই কথা বলে গিয়েছেন। এক সপ্তাহ কেটে যাওয়ার পরেও যখন সুরেন্দ্র বাড়ি ফেরেননি, তখন তাঁর বাড়ির লোকেরা পুলিশে নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এমনকি সুরেন্দ্রের স্ত্রীও আলাদা ভাবে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। স্বামীকে খুঁজে দিতে হবে, এ কথা জানিয়ে থানায় গিয়ে কান্নাকাটিও করেন সুরেন্দ্রের স্ত্রী।

পুলিশ সূত্রে খবর, ২৬ মে সুরেন্দ্রের পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তদন্তকারীরা সুরেন্দ্রের স্ত্রীর সঙ্গে কথাবার্তাও বলেন। তখনও তিনি দাবি করেন, সুরেন্দ্র তাঁকে বলে গিয়েছিলেন কয়েক দিনের জন্য বাইরে যাচ্ছেন। কিন্তু কোথায় যাচ্ছেন, সে সম্পর্কে কিছু বলেননি। তবে সুরেন্দ্রের বাড়ির লোকেদের কিছু একটা সন্দেহ হয়েছিল রুবির আচরণ এবং হাবভাবে। পুলিশকে তাঁরা সে কথা জানান। রুবিকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বেশ কয়েক দফায়। বেশ কিছু তথ্যে অসঙ্গতি লক্ষ করেন তদন্তকারীরা। তবে তাঁকে সেটা বুঝতে দেননি তাঁরা। রুবির গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছিল। এই মামলাতেই শুক্রবার সুরেন্দ্রের বাড়িতে পৌঁছোয় পুলিশ। তল্লাশি চালানোর সময় তদন্তকারীদের একটি জায়গায় গিয়ে চোখ আটকে যায়। ঝকঝকে, তকতকে বাথরুম। সদ্য প্লাস্টার করা। মেঝেতে নতুন টাইল্‌স বসানো।

পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় বাথরুমের মেঝে ভাঙার কাজ শুরু হয়। টাইল্‌স ভেঙে মেঝে খুঁড়তেই প্রথমে হাতের কয়েকটি আঙুল দেখা যায়। তার পর আরও খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে এক যুবকের দেহ। পরিবারের লোকেরা শনাক্ত করেন সুরেন্দ্রকে। তাঁরা রুবির বিরুদ্ধে সুরেন্দ্রকে খুনের অভিযোগ তোলেন। তার পরই আটক করা হয় রুবিকে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় রুবি ভেঙে পড়েন। পুলিশ সূত্রে খবর, সুরেন্দ্রের স্ত্রী দাবি করেন, তাঁর স্বামী কোনও কাজ করতেন না। মদ্যপান করে বাড়িতে এসে তাঁকে মারধর করতেন। দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার সহ্য করছিলেন তিনি। গত ১৮ মে অশান্তি চরমে ওঠে। পুলিশের দাবি, তখনই সুরেন্দ্রকে খুন করে বাথরুমের মেঝে খুঁড়ে পুঁতে দেন। প্রমাণ লোপাট করতে এবং কারও যাতে সন্দেহ না হয়, তাই বাথরুম মেরামতির কাজ করেন। টাইল্‌স বসান। তবে শেষরক্ষা হল না। স্বামীকে খুনের অভিযোগে শুক্রবার গ্রেফতার করা হয় রুবিকে।

Uttar Pradesh

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy