টেলিগ্রাম অ্যাপ নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্রের। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং গুজব ঠেকাতে পুনর্পরীক্ষার সময় টেলিগ্রামের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। সেই বিতর্ক পেরিয়ে আবার কেন্দ্রের নজরে জনপ্রিয় এই মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম। কেন ওই অ্যাপে ‘পাইরেটেড’ সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজ়ের বহুল প্রচার হয়? সেই অভিযোগে টেলিগ্রাম কি ব্যবস্থা নিয়েছে? কর্তৃপক্ষকে নোটিস পাঠিয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে নয়াদিল্লির তরফে।
কেন্দ্রীয় বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি (ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড আইটি) মন্ত্রকের তরফে টেলিগ্রাম অ্যাপকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। ওই নোটিসে বলা হয়েছে, সাধারণত ওটিটি প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজ় টেলিগ্রাম অ্যাপের বিভিন্ন গ্রুপে পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। কেন ওই অ্যাপে এত ‘পাইরেটেড’ বিষয়বস্তু থাকবে? সংশ্লিষ্ট ওই সব গ্রুপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ক্রমবর্ধমান এ ধরনের চুরি (পাইরেসি) ভারতের বিনোদন জগতে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, উল্লেখ নোটিসে। নির্দেশ অনুযায়ী, পাইরেটেড কন্টেন্টের বহুল প্রচার (শেয়ার) ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে। কপিরাইট লঙ্ঘন করে প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার প্রতিরোধের ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। ১৫ দিনের মধ্যে কেন্দ্রের নির্দেশ মানতে হবে টেলিগ্রামকে। কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা বিস্তারিত জানিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে নোটিসের জবাব দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে কেন্দ্র।
ভারতের বিনোদন জগতে পাইরেসি বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে প্রচারের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কোনও সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ়ের ‘চুরি’ ভার্সন পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেকেরই দাবি, টেলিগ্রাম হল সে ধরনের অ্যাপ যেখানে ওই সব কন্টেন্ট পাওয়া যায়। এ বার সেই সব দাবি, অভিযোগের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু করল মোদী সরকার।
নিটের সময় টেলিগ্রাম অ্যাপের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সংস্থা। শুনানির সময় কেন্দ্র আদালতে টেলিগ্রামকে ‘ডার্ক ওয়েব’-এর সঙ্গে তুলনা করে। অভিযোগ, এই অ্যাপকে ব্যবহার করে দিকে দিকে নানা দুষ্কর্ম, অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অ্যাপের নির্দিষ্ট বিশেষত্বের কারণে এখানে অপরাধীকে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। যদিও কেন্দ্রের যুক্তি মানতে নারাজ ছিল টেলিগ্রাম। তবে শেষপর্যন্ত কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি হাই কোর্ট। আদালত জানায়, অসদুপায় সংক্রান্ত উদ্বেগ নিরসনের জন্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলি ছিল যথাযথ এবং সুপরিকল্পিত।
আরও পড়ুন:
দিন দুয়েক আগেই ‘ইউজ়ারনেম’ ফিচার বিতর্কে নাম জুড়েছিল টেলিগ্রামের। কেন্দ্রীয় বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে সংস্থাকে চিঠি পাঠিয়ে তাদের চালু করা ‘ইউজ়ারনেম’ ফিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। জানতে চাওয়া হয়, সংশ্লিষ্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ‘ইউজ়ারনেম’ ফিচার চালুর পরে কী ভাবে প্রতারণা ও পরিচয় জালিয়াতি সংক্রান্ত সমস্যার মোকাবিলা করছে। প্রথমে হোয়াট্সঅ্যাপকে এই সংক্রান্ত নোটিস পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। তার পরে টেলিগ্রাম এবং সিগন্যাল নামক দুই মেসেজিং প্ল্যাটফর্মকে নোটিস পাঠিয়ে তাদের ফিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলে কেন্দ্র।