সঙ্কটের সময় দেশের অশোধিত তেলের ভান্ডার থেকে মাত্র সাড়ে ৯ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। আরটিআই-এর উত্তরে এমনটাই জানাল কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গোটা বিশ্বেই তেলের জোগান ব্যাহত হয়েছে। ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়। এই আবহে ‘ইন্ডিয়া টুডে’ আরটিআই করে ভারতে মজুত অশোধিত তেলের পরিমাণ জানতে চেয়েছিল। তার উত্তরেই ওই তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্র।
আরটিআই-এর উত্তরে কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে ৫৩.৩ লক্ষ মেট্রিক টন অশোধিত তেল মজুত করার ভান্ডার রয়েছে। একটি তৈলভান্ডার রয়েছে বিশাখাপত্তনমে, একটি রয়েছে মেঙ্গালুরুতে, আর একটি কর্নাটকের পাদুরে।
সোমবার রাজ্যসভায় কেন্দ্র জানিয়েছে, অশোধিত তেলের ভান্ডার পুরোপুরি ব্যবহার করা হচ্ছে না। এখন দেশে ৩৩.৭২ লক্ষ মেট্রিক টন অশোধিত তেল মজুত রাখা হয়েছে। আমদানির পরিমাণ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে চাহিদার উপর নির্ভর করে এর পরিমাণ ওঠানামা করে থাকে।
যে কোনও সঙ্কটজনক পরিস্থিতির মোকাবিলায় দেশে মজুত তেলের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে চাইছে কেন্দ্র। ২০২১ সালে দু’টি তৈলভান্ডার তৈরির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। একটি তৈলভান্ডার তৈরি হবে ওড়িশার চণ্ডীখোল এবং অপরটি কর্নাটকের পাদুরে। এই দু’টি তৈলভান্ডার কাজ শুরু করলে দেশে আরও ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন তেল মজুত করা যাবে।
আরটিআই-এর উত্তরে কেন্দ্র এ-ও জানিয়েছে যে, ২০০৪ সালের ৭ জানুয়ারি মাসে দেশে কৌশলগত তেলের ভান্ডার তৈরির প্রকল্পে অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। তা রূপায়ণে ওই বছরেরই জুন মাসে ‘ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজ়ার্ভ’ তৈরি করা হয়।
প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে হরমুজ় প্রণালী পেরিয়ে ভারতে ঢোকে তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং জাহাজগুলি। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কৌশলগত কারণেই ওই প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ রেখেছিল ইরান। এর ফলে গোটা বিশ্বেই অশোধিত তেলের ব্যারেলপিছু দাম চড়চড় করে বাড়তে থাকে। দেশে তেলের সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে সোমবার লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, দেশে পেট্রল, ডিজ়েল এবং গ্যাসের জোগান সুনিশ্চিত রাখতে সব ধরনের চেষ্টা করছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী এ-ও জানান যে, গত ১১ বছরে তেল আমদানির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য বাড়িয়েছে ভারত। আগে ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করত নয়াদিল্লি। মোদী জানিয়েছেন, এখন ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করা হয়।
তবে কেন্দ্রের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সঙ্কট দীর্ঘস্থায়ী হলে অন্য দেশ বা উৎস থেকে তেল আমদানি করেই ঘরের চাহিদা মেটাতে হবে সরকারকে।