‘অনির্দিষ্টকালের ইজারা’ বাতিল করার কথা জানিয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছিল দেড় মাস আগেই। এ বার দিল্লির সফদরজং রোডের জমি থেকে ঐতিহ্যশালী জিমখানা ক্লাবকে উচ্ছেদ করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৭১ সালের ‘সরকারি সম্পত্তি (বেআইনি দখলদার উচ্ছেদ) আইন’-এ শুনানির জন্য ক্লাব কর্তৃপক্ষকে তলব করা হয়েছে ‘ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (ভূমি এবং উন্নয়ন) দফতরে। আগামী ৭ জুলাই ওই শুনানি হবে।
‘সরকারি সম্পত্তি (বেআইনি দখলদার উচ্ছেদ) আইন’ অনুযায়ী জবরদখল উচ্ছেদের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নোটিস দিয়ে শুনানির জন্য তলব করতে হয়। সেই উদ্দেশ্যে একজন বিশেষ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত খবরে দাবি, বলা হয়েছে, ‘‘প্রাঙ্গণটি ভারত সরকারের অধীন মূল্যবান সরকারি সম্পত্তি। সরকার জনস্বার্থ ও জনউদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ধরনের সরকারি সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ, সুরক্ষা এবং ব্যবহার করতে বদ্ধপরিকর।’’ ফলে এই নোটিসকে উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সূচনা বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে নোটিসে বলা হয়েছে, লিজ় (ইজারা)-চুক্তি অনুযায়ী, জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে লিজ়দাতা (সরকার) প্রাঙ্গণটি আবার নিজের দখলে নিতে বা ফেরত নিতে পারে।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, এর আগে ৫ জুনের মধ্যে লুটিয়েন্স দিল্লির ২৭.৩ একর জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য দিল্লির জিমখানা ক্লাবকে নোটিস পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। গত ২২ মে ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার বিরোধিতা করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ২৬ মে বিচারপতি অবনীশ ঝিঙ্গানের বেঞ্চে শুনানি হয় মামলার। সেখানে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়েছিলেন, ৫ জুন দিল্লি জিমখানা ক্লাবের জমি জোর করে নিয়ে নেবে না কেন্দ্রীয় সরকার। এজলাসে তিনি জানান, ক্লাবকে ওই জমি অনির্দিষ্টকালের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। সেটি বাতিল করার বিষয়টি জানিয়েই ক্লাবকে নোটিস দেওয়া হয় গত ২২ মে। সলিসিটর জেনারেল হাই কোর্টে এ-ও জানান, ওই জমি থেকে উচ্ছেদের কোনও প্রক্রিয়া শুরু হলে, আইন মেনেই তা করা হবে। যথাযথ আইনি নোটিস দিয়েই সেই পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন তিনি। এ বার শুরু হল সেই আইনি প্রক্রিয়া।