২১ জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে টানাপড়েনের মধ্যেই ‘তৃণমূলের দখল’ নিয়ে ঋতব্রতপন্থী এবং কালীঘাটপন্থীদের লড়াই পৌঁছে গেল দিল্লিতে। কে আসল তৃণমূল, জানতে এ বার ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের প্রতিনিধিদের ডেকে পাঠাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তলব পেয়েই দিল্লি রওনা হলেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় দিল্লির নির্বাচন সদনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রতিনিধিদের দেখা করতে বলা হয়েছে। ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের পরিষদীয় দলের ১০ সদস্য ঋতব্রতের নেতৃত্বে বুধবার বিকেলে দিল্লি রওনা হয়েছেন। তার আগে ঋতব্রত বলেন, ‘‘আমাদের আজকেই জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে দেখা করতে হবে। তাই আমরা যাচ্ছি। নির্বাচন কমিশন কেন ডেকেছে তা প্রকাশ্যে বলা উচিত নয়।’’ সূত্রের খবর, ঋতব্রতপন্থীদের সঙ্গে কথা বলার পরে জাতীয় নির্বাচন কমিশন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের প্রতিনিধিদেরও ডেকে পাঠিয়ে তাঁদের বক্তব্য জানতে চাইবে।
দমদম বিমানবন্দরে ঋতব্রত বলেন, ‘‘আসল-নকল জানি না। আমরা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রস। ২২ জুন আমাদের বিশেষ সেশন হয় এবং তার ভিত্তিতে আমরা সিইও-কে চিঠি দিয়েছিলাম এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে সময় চেয়েছিলাম। তাঁরা সময় দিয়েছেন। কাল বেলা ১২ টায় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ আমাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় দিয়েছেন। কালেক্টিভ লিডারশিপ (যৌথ নেতৃত্ব) হিসাবে আমরা ১০ জনের দল যাচ্ছি।’’ ঋতব্রত ছাড়াও প্রতিনিধিদলে রয়েছেন, সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, আখরুজ্জামান, অরূপ রায়, শুভাশিস দাস, গোলাম রব্বানি-সহ ১০ জন।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, গত ২১ জুন নিউ টাউনের হোটেলে বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে ‘তৃণমূলের’ জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করে ফেলেছিলেন ঋতব্রত এবং তাঁর সহযোগীরা। ২৩ জুন তৃণমূল দখলের পথে আরও একধাপ এগিয়ে তাঁরা গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে। নতুন তৃণমূলের ‘কান্ডারি’ ঋতব্রতের সঙ্গে সিইও দফতরে গিয়েছিলেন তাঁদের তৈরি তৃণমূল কর্মসমিতির চেয়ারম্যান অরূপ রায়, সাধারণ সম্পাদক সন্দীপন সাহা এবং কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান। সূত্রের খবর, নতুন তৃণমূলের কর্মসমিতির ৩০ জন সদস্য-সহ পদাধিকারীদের নাম এবং সোমবারের বৈঠকের কার্যবিবরণী সিইও দফতরে জমা দিয়েছিলেন তাঁরা। পাশাপাশি, সেই নথি ইমেল করেছিলেন দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে। যদিও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু বলেননি ঋতব্রত বা তাঁর সঙ্গীরা। বৈঠক শেষের পর এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘‘আমরা কমিশনের কাছে কোনও স্মারকলিপি জমা দিতে আসিনি। কিছু নথি দিয়েছি। সেগুলি প্রকাশ্যে আনা যায় না।’’
সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে দেওয়া চিঠি এবং দিল্লিতে পাঠানো ইমেলে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে দলের নাম, নির্বাচনী প্রতীক (জোড়াফুল) এবং তহবিল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা চেয়েছে ঋতব্রত শিবির। যদিও তাঁরা কমিশনের কাছে জোড়াফুল প্রতীক দাবি করেছেন কি না জানতে চাওয়া হলে ঋতব্রতের বলেছিলেন, ‘‘প্রতীক দাবি করব কেন ? দাবি করার কী আছে? দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে। আমরাই তো তৃণমূল।’’ অন্য দিকে, দলের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের কথা উল্লেখ করে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার আবেদন জানিয়েছিলেন প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে ওই অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ রাখতে বলেছিলেন তিনি। পরে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার আবেদন জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয় ঋতব্রতের শিবির। পুলিশ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করে। তিনটি অ্যাকাউন্টে জমা থাকা তৃণমূলের ৪৪০ কোটি টাকা আপাতত তোলা যাবে না বলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট শিবির। পাশাপাশি, দলের নাম, প্রতীক ভাঁড়িয়ে কর্মীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টার অভিযোগ তুলে ঋতব্রত, সন্দীপন, অরূপ রায়, জাভেদ খান, বিপ্লব মিত্রের বিরুদ্ধে কালীঘাট এবং নিউ টাউন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের নেত্রী দোলা সেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- বিধানসভার পরে লোকসভাতেও তৃণমূল হাতছাড়া হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
- লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতাকে ছেড়ে যোগ দিলেন বিদ্রোহী শিবিরে।
- জোড়াফুলের এই ২০ সাংসদ এর পর যোগ দিতে চাইছেন কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-তে।
-
‘প্রতীক চাইব কেন, আমরাই তো তৃণমূল’, কমিশনে নথি জমা দেওয়ার পরে বললেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত
-
তৃণমূলে তুঙ্গে দল দখলের যুদ্ধ! মমতা-পক্ষ কমিশনকে চিঠি দেওয়ার পরের দিনই সিইও দফতরে যাচ্ছেন ঋতব্রতেরা
-
তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট রহস্যের তদন্ত: লেনদেনের সব নথিপত্র ব্যাঙ্কের থেকে তলব পুলিশের! কোর্টেই ৪৪০ কোটির ভবিষ্যৎ
-
মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে ভর করে উত্থান, মন্ত্রী হয়েই নানা অভিযোগে বিদ্ধ! কী ভাবে তৃণমূলের দাপুটে নেতা হয়ে ওঠেন বালু?
-
তৃণমূল ভাঙতে জোড়াফুল সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ! সদা গোপনে থেকে মমতার দলকে টুকরো করা কে এই রমেশ?