তৃণমূল দখলের যুদ্ধ এ বার গড়াল নির্বাচন কমিশনে। নিউ টাউনের বিলাসবহুল হোটেলে সোমবার বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে ‘তৃণমূলের’ জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করে ফেলেছিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সহযোগীরা। মঙ্গলবার আরও তৃণমূল দখলের পথে আরও একধাপ এগিয়ে তাঁরা বিধানসভার অধিবেশন শেষ হওয়ার পরে গেলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে।
নতুন তৃণমূলের ‘কান্ডারি’ ঋতব্রতের সঙ্গে মঙ্গলবার সিইও দফতরে গিয়েছিলেন তাঁদের তৈরি তৃণমূল কর্মসমিতির চেয়ারম্যান অরূপ রায়, সাধারণ সম্পাদক সন্দীপন সাহা এবং কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান। সূত্রের খবর, নতুন তৃণমূলের কর্মসমিতির ৩০ জন সদস্য-সহ পদাধিকারীদের নাম এবং সোমবারের বৈঠকের কার্যবিবরণী সিইও দফতরে জমা দিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি, সেই নথি ইমেল করেছেন নয়াদিল্লিকে, নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে। যদিও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু বলেননি ঋতব্রত বা তাঁর সঙ্গীরা। বৈঠক শেষের পর এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘‘আমরা কমিশনের কাছে কোনও স্মারকলিপি জমা দিতে আসিনি। কিছু নথি দিয়েছি। সেগুলি প্রকাশ্যে আনা যায় না।’’
সূত্রের খবর আটঘাট বেঁধে আইনি পরামর্শ নিয়েই তৃণমূলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক জোড়াফুল দখলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ঋতব্রতেরা। ঠিক যে ভাবে বিজেপির সমর্থনে ২০২২-এ একনাথ শিন্দে ও ২০২৩-এ অজিত পওয়ার শিবসেনা এবং এনসিপির দখল নিয়েছিলেন, সেই কৌশলই এ ক্ষেত্রে নতুন তৃণমূল নিয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন। যদিও তাঁরা কমিশনের কাছে জোড়াফুল প্রতীক দাবি করেছেন কি না জানতে চাওয়া হলে ঋতব্রতের মন্তব্য, ‘‘প্রতীক দাবি করব কেন ? দাবি করার কী আছে? দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে। আমরাই তো তৃণমূল।’’ যদিও এ বিষয়ে সোমবার ঋতব্রত বলেছিলেন, ‘‘আমরা যা করেছি আইন মেনে, নিশ্ছিদ্র ভাবে করেছি।’’
প্রসঙ্গত, সোমবার ঋতব্রতদের বৈঠকের পরে রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে তৃণমূলের চেয়ারপার্সন দাবি করে জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা জমা দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনে। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে রাখা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তার পরেই তৎপরতা বৃদ্ধি করে ঋতব্রত শিবির। গত ৫ জুন তৃণমূলের বৈঠকে জাতীয় কর্মসমিতিতে রদবদল করা হয়। তার পরে দেখা যায় অনেকে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। গত সপ্তাহে ফের তালিকা পরিমার্জন করে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসদের নাম বাদ দেন মমতা। যুক্ত করেন রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের নাম। তার পর সেই তালিকা পাঠানো হয় কমিশনে। এর পরে ঋতব্রতেরা সোমবার সর্বভারতীয় তৃণমূলের ‘বিশেষ অধিবেশন’ ডেকেছিলেন। জেলা থেকে আসা বহু নেতা যোগ দিয়েছিলেন বৈঠকে। সেখান থেকে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূলের’ চেয়ারম্যান করা হয়। ৩০ জনের জাতীয় কর্মসমিতিও গঠন করা হয়েছে সেই বৈঠকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- বিধানসভার পরে লোকসভাতেও তৃণমূল হাতছাড়া হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
- লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতাকে ছেড়ে যোগ দিলেন বিদ্রোহী শিবিরে।
- জোড়াফুলের এই ২০ সাংসদ এর পর যোগ দিতে চাইছেন কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-তে।
-
১৫:০৯
তৃণমূলে তুঙ্গে দল দখলের যুদ্ধ! মমতা-পক্ষ কমিশনকে চিঠি দেওয়ার পরের দিনই সিইও দফতরে যাচ্ছেন ঋতব্রতেরা -
১২:৩৭
তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট রহস্যের তদন্ত: লেনদেনের সব নথিপত্র ব্যাঙ্কের থেকে তলব পুলিশের! কোর্টেই ৪৪০ কোটির ভবিষ্যৎ -
মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে ভর করে উত্থান, মন্ত্রী হয়েই নানা অভিযোগে বিদ্ধ! কী ভাবে তৃণমূলের দাপুটে নেতা হয়ে ওঠেন বালু?
-
তৃণমূল ভাঙতে জোড়াফুল সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ! সদা গোপনে থেকে মমতার দলকে টুকরো করা কে এই রমেশ?
-
মমতার বাড়িতে বৈঠকের মাঝে বাগ্বিতণ্ডা অভিষেক-কুণালের! তর্কাতর্কি সামাল দিতে দলনেত্রী বললেন, ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল