হাফ প্যান্ট পরা। গায়ে একটি হাফ টি শার্ট। গলায় জড়ানো তোয়ালে। বাড়ির দাওয়ায় খাটিয়ায় বসে প্রৌঢ়। চোখ ছল ছল করছে। দেখে মনে হবে এখনই অশ্রু গড়িয়ে পড়বে। কিন্তু তা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেন। তার পরই কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে পুত্রের উদ্দেশে বার্তা দিলেন, ‘‘ওরে, তোর অপেক্ষায় রয়েছি। তুই ফিরে আয়। তোর দলের আর কেউ নেই। এ বার তুই নিজের মানুষগুলোর কাছে ফিরে আয়, বাবা।’’ এক বাবা তাঁর মাওবাদী পুত্রকে বাড়ি ফিরে আসার কাতর আর্জি জানাচ্ছেন।
রাজ্য পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, দেশে শেষ ছ’জন মাওবাদী সদস্যের অন্যতম জয়রাম ওরফে নন্দু মোঙ্গে গাভারে। গঢ়চিরৌলির বাসিন্দা নন্দু। বাবার সঙ্গে রাগ করে ১৪ বছর আগে বাড়ি ছেড়েছিলেন তিনি। তার তখন ১৭ বছর বয়স। সেই সময় হাতে অস্ত্র তুলে নেন নন্দু। তার পর আর বাড়িমুখো হননি। ভুলে গিয়েছেন স্বজনদের। জঙ্গল, পাহাড়, রাতজাগা, এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ানো, আত্মগোপন করা, নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই— বাড়ি ছাড়ার পর থেকে এগুলিই হয়ে উঠেছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবনের রুটিন। ৩১ মার্চ দেশকে মাওবাদী মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে যে ক’জন মাওবাদীর এখনও হদিস মেলেনি, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নন্দুও।
আরও পড়ুন:
গঢ়়চিরৌলির এটাপল্লির প্রত্যন্ত গ্রাম গিলানগুড়া। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বাড়ি থেকেই পুত্র নন্দুর উদ্দেশে ভিডিয়োবার্তা দেন তাঁর বাবা মোঙ্গে গাভারে। তিনি বলেন, ‘‘তোর সব দলীয় নেতা, সদস্য, কমরেড দালাম ছেড়ে চলে গিয়েছে। তা হলে কেন তুই এত কষ্ট করে এখনও একা জঙ্গলে পড়ে আছিস। অস্ত্র ছেড়ে আমাদের কাছে ফিরে আয়, বাবা।’’ সূত্রের খবর, নন্দু হলেন মাওবাদীদের ১০ নম্বর কোম্পানির সদস্য। যে ছয় মাওবাদী এখনও আত্মসমর্পণ করেননি তাঁদের মধ্যে চার জন পুরুষ এবং দু’জন মহিলা। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জন ছত্তীসগঢ়ের পাঁচ জন। আর নন্দু হলেন মহারাষ্ট্রের।