সপ্তাহের প্রথম দিন ভক্তদের কাছে ভগবান শিবকে তুষ্ট করার দিন। মহাদেবের আশীর্বাদ পেতে আরাধনার সময় ভক্তেরা বিভিন্ন রকম উপকরণ নিবেদন করে থাকেন। সোমবার ভোলেনাথের পুজোর জন্য খুব বেশি জিনিসের প্রয়োজন না হলেও শিবপুজোর বিশেষ নির্দেশিকা রয়েছে। বিশেষ কিছু কিছু উপকরণ শিবের উদ্দেশে নিবেদন করলে ভক্তেরা আশীর্বাদের পরিবর্তে রোষের কবলেও পড়তে পারেন। সোমবার শিবের আরাধনার সময় কী কী জিনিস নিবেদন করা যায় না, তা জেনে নিন—
সিঁদুর
সৌভাগ্যের প্রতীক সিঁদুর সমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত দেবী ও দেবতাদের পূজায় ব্যবহৃত হয়। পৌরুষ এবং বৈরাগ্যের প্রতীক মহাদেবের পুজোয় সিঁদুর নিবেদন করা যায় না। তা শিবের তপস্বী স্বভাবের পরিপন্থী। সিঁদুরের পরিবর্তে শিবলিঙ্গে সাদা চন্দন দিতে পারেন।
তুলসীপাতা
হিন্দু ধর্মে প্রায় সব পুজোয় তুলসীপাতা ব্যবহার করা হয়। হিন্দুদের কাছে তা অত্যন্ত পবিত্র, আরোগ্যদায়ক এবং আধ্যাত্মিক বলে মনে করা হয়। কিন্তু শিবের পুজোয় তা ব্যবহার করা হয় না। শিবপুজোয় তুলসীপাতা নিবেদন করলে শিবের ক্রোধের উদ্রেক হতে পারে বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন:
হলুদ
হলুদ সাধারণত বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান ও পূজায় ব্যবহৃত হয়। অন্য দিকে, হলুদ উর্বরতা এবং বিবাহের সঙ্গেও যুক্ত। অথচ, মহাদেবের পুজোয় হলুদ নিবেদন করা হয় না। তার কারণ, ভগবান শিবকে একজন তপস্বী হিসেবে বিবেচনা করা হয় যিনি পার্থিব সুখ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেছেন। হলুদের গুণাগুণ তপস্বী স্বভাবের সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই শিবপুজোয় হলুদ ব্যবহার করা হয় না।
ভাঙা চাল
শিব পরিপূর্ণতার প্রতীক। তাই শিবের আরাধনার সময় ভাঙা চাল নিবেদন করলে শিবের রোষানলে পড়তে পারেন ভক্তরা। সব সময় গোটা চাল নিবেদন করুন।
আরও পড়ুন:
কেতকী ফুল
সুগন্ধি হওয়া সত্ত্বেও কেতকী ফুল মহাদেবের প্রিয় তালিকায় স্থান পায়নি। সে কারণেই সোমবার শিবের আরাধনায় কেতকী ফুল নিবেদন করলে ভোলেনাথ রুষ্ট হতে পারেন।
নারকেল জল
শিবলিঙ্গে ভুল করেও নারকেলের জল দেবেন না। তাতে মহাদেবের রোষের কবলে পড়তে পারেন। দেবাদিদেবের আরাধনায় গোটা নারকেল দেওয়ার চল রয়েছে।