ইজ়রায়েলি হামলায় লেবাননে বেসামরিক মানুষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। কোনও ভাবেই ইজ়রায়েলের এ ধরনের হামলাকে যে সমর্থন করে না ভারত, তা বুঝিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে লেবাননে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলেও জানান ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
শুক্রবার লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে রণধীর বলেন, ‘‘বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর খবরে আমরা গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন।’’ লেবাননে রাষ্ট্রপুঞ্জের অন্তর্বর্তিকালীন বাহিনী (ইউনিফিল)-তে সেনা সরবরাহকারী দেশ ভারত। সেই বিষয়ে আলোপাত করে রণধীর বলেন, ‘‘ইউনিফিলের সেনা সরবরাহকারী দেশ হিসাবে আমরা বলতে পারি ঘটনাপ্রবাহের গতিপ্রকৃতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’’
আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার উপর জোর দিয়েছেন রণধীর। তাঁর কথায়, ‘‘ভারত সর্বদাই বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতাকে সম্মান করা উচিত।’’ তিনি এ-ও জানান, লেবাননে স্থিত ভারতীয় দূতাবাস সর্বদা সে দেশে থাকা ভারতের নাগরিকদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার উপর নজর রাখছে।
আরও পড়ুন:
ভারত তার জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছে, জানান রণধীর। তিনি বলেন, ‘‘আমরা পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাবলির উপর গভীর ভাবে নজর রাখছি। উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগও করছি। প্রধানমন্ত্রীর (নরেন্দ্র মোদী) নির্দেশে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা উপসাগরীয় দেশগুলিতে সফর করছেন।’’ রণধীরের মতে, ভারত শুধু নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তার কথা ভাবছে না। একই সঙ্গে প্রতিবেশীদের অনুরোধে তাদের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সহায়তা করছে।
ইজ়রায়েলি হানায় ২৪ ঘণ্টায় লেবাননে ২৫০-এর বেশি নিহত হয়েছেন। জখম হয়েছেন হাজারের বেশি। সবচেয়ে বেশি হতাহতের খবর মিলেছে লেবাননের রাজধানী বেইরুটে। এই হামলার প্রতিবাদে হরমুজ় প্রণালী ফের ‘অবরুদ্ধ’ করে দিয়েছে ইরান। তা নিয়ে বিপাকে পড়েছে আমেরিকাও। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ অবিলম্বে খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।