Advertisement
E-Paper

দাক্ষিণাত্যে কি এ বার ভাঙছে ‘ইন্ডিয়া’? স্ট্যালিনের বদলে তামিলনাডুতে বিজয়ের সঙ্গে জোট করতে পারে কংগ্রেস

স্ট্যালিনের পিতা তথা তামিলনাড়ুর প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধি ২০১১-র বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসকে ৬৩ আসন ছেড়েছিলেন। তার পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে রাহুল গান্ধীর দলের বরাদ্দ আসনে কোপ পড়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫১
(বাঁ দিক থেকে) এমকে স্ট্যালিন, রাহুল গান্ধী, থলপতি বিজয়।

(বাঁ দিক থেকে) এমকে স্ট্যালিন, রাহুল গান্ধী, থলপতি বিজয়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

‘ইন্ডিয়া’র অন্দরে টানাপড়েনের খবর এ বার তামিলনাড়ু থেকে। দক্ষিণ ভারতের ওই রাজ্যে বিজেপি বিরোধী দুই দল ডিএমকে এবং কংগ্রেসের মধ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোটে আসন রফা নিয়ে টানাপড়েনের আঁচ মিলছে বেশ কিছু দিন থেকেই। এ বার দু’দশকের পুরনো সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছে।

প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি, ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় কংগ্রেসকে মাত্র ৩২টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের দল। পাশাপাশি, ভোট পরবর্তী ক্ষমতা ভাগাভাগির (নতুন মন্ত্রিসভায় কংগ্রেস বিধায়কদের অন্তর্ভুক্তি) দাবিও খারিজ করে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুর কংগ্রেস নেতাদের বড় অংশই ডিএমকের সঙ্গ ছেড়ে চিত্রতারকা ‘থলপতি’ বিজয়ের নতুন দল তামিলাগা ভেটরি কাজ়াগম (টিভিকে)-এর সঙ্গে জোট গড়ার চেষ্টা শুরু করেছেন।

স্ট্যালিনের পিতা তথা তামিলনাড়ুর প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধি ২০১১-র বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসকে ৬৩ আসন ছেড়েছিলেন। তার পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে রাহুল গান্ধীর দলের বরাদ্দ আসনে কোপ পড়েছে। ২০১৬ সালে ‘হাত’ প্রতীকের জন্য করুণানিধি বরাদ্দ করেছিলেন ৪১টি আসন। স্ট্যালিন দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২১-এ ছেড়েছিলেন ২৫টি। তামিলনাডুর কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের হিসাব বলছে অন্তত ৪০টি আসনে জেতার মতো অবস্থায় রয়েছে দল। কোনও অবস্থাতেই তাঁরা ৩৮টির কম আসনে লড়তে নারাজ। এই পরিস্থিতিতে বিজয়ের দলের সঙ্গে জোটের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে কংগ্রেসের অন্দরে।

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা এসেছে টিভিকে থেকেও। দলের মুখপাত্র ফেলিক্স জেরাল্ড বলেন, ‘‘রাহুল গান্ধী এবং বিজয় বন্ধু। তাঁরাই আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’’ গত সেপ্টেম্বরে করুরে বিজয়ের পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা কিছুটা বিতর্ক তৈরি করলেও ইতিমধ্যেই তাঁর সভাগুলি ঘিরে আবার উন্মাদনা তৈরি হয়েছে দ্রাবিড় রাজনীতিতে। বহিষ্কৃত দুই এডিএমকে নেতা— প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পন্নীরসেলভম এবং প্রয়াত জয়ললিতার বান্ধবী শশীকলার ভাইপো দীনাকরণও টিভিকে-তে যোগ দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

সম্প্রতি ‘টিম রাহুলের’ অন্যতম সদস্য, কংগ্রেস সাংসদ মণিকম টেগোর প্রকাশ্যে ‘ক্ষমতা ভাগাভাগি’র কথা বলে ডিএমকের উপর চাপ বাড়িয়েছেন। অতীতে এমন শর্ত কোনও কংগ্রেস নেতার মুখে শোনা যায়নি। এক ধাপ এগিয়ে কংগ্রেসের ডেটা অ্যানালিসিস টিমের প্রধান প্রবীণ চক্রবর্তী কার্যত ডিএমকে সরকারের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘‘তামিলনাড়ুর মতো তথাকথিত উন্নত রাজ্যের ঋণের অঙ্কটা উত্তরপ্রদেশের চেয়েও বেশি।’’ আগামী বছর এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই তামিলনাড়ুতেও বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। তার আগে ক্রমশই দানা বাঁধছে জোট বদলের জল্পনা। আর সে ক্ষেত্রে নীতীশ কুমারের জেডিইউ, অরবিন্দ কেজরীওয়ালের আপের পর স্ট্যালিনের ডিএমকে-ও ‘ইন্ডিয়া’ ছাড়তে পারে।

INDIA Alliance DMK Congress MK Stalin Rahul Gandhi Vijay Thalapathy Tamil Nadu Assembly Election
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy