নতুন বছরের গোড়াতেই নতুন করে অশান্তি মণিপুরে। সোমবার ভোর থেকে বিষ্ণুপুর জেলায় সাইতন-নগানুকন এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে মেইতেই এবং আদিবাসীদের কয়েকটি সংগঠন ২৪ ঘণ্টা বন্ধের ডাক দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, সোমবার ভোর ৫টা ৪০ নাগাদ সাইতন-নগানুকনে প্রথম একটি আইইডি (ইমপ্রোভাইজ়ড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে রাখা বিস্ফোরকের অভিঘাতে এক মহিলা-সহ দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় জেরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর পরে ৫টা ৫৫ মিনিটে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ হয় অদূরের একটি রাস্তায়। পুলিশি তৎপরতার মধ্যের সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ একটি বাড়ির সামনে হয় তৃতীয় বিস্ফোরণ। এক ব্যক্তি ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন:
ঘটনার প্রতিবাদে ‘আদিবাসী পিপল অর্গানাইজ়েশন মণিপুর’ (আইপিওএম), ‘অল মণিপুর স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’ (এএমএসইউ), ইয়েলহোমি কানবা লুপ-সহ বেশ কয়েকটি নাগরিকগোষ্ঠী এবং ছাত্র সংগঠন ২৪ ঘণ্টার মণিপুর বন্ধের ডাক দিয়েছে। প্রসঙ্গত, মেইতেইদের ‘তফসিলি তকমা’ ঘিরে মতবিরোধের জেরেই ২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে মেইতেই-কুকি সংঘাত ছড়িয়েছিল। যা থেকে রাজ্য জুড়ে হিংসার সূচনা। মণিপুর হাই কোর্ট মেইতেইদের তফসিলি জনজাতির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছিল। এর পরেই জনজাতি সংগঠনগুলি তার বিরোধিতায় পথে নামে। মণিপুরের আদি বাসিন্দা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মেইতেই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কুকি, জ়ো-সহ কয়েকটি তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের (যাদের অধিকাংশই খ্রিস্টান) সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওই রাজ্যে প্রায় দুশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ঘরছাড়ার সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। হাই কোর্ট পরে নির্দেশ প্রত্যাহার করলেও শান্তি ফেরেনি মণিপুরে।