সম্পর্কে দুই বোন। বিয়েও ঠিক হয়েছিল একই দিনে। কিন্তু সেই বিয়ে আর হল না। বিয়েবাড়ির আনন্দে শোকের ছায়া নেমে আসে দুই বোনের দেহ উদ্ধারের পর। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনেরই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে। তা থেকে স্পষ্ট বিষক্রিয়ার কারণেই মৃত্যু! তবে তাঁরা নিজেরা বিষ থেকে আত্মঘাতী হয়েছেন না কি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে, তা স্পষ্ট নয়। কারণ তাঁদের দেহের পাশ থেকে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি।
জোধপুরের মানাই গ্রামের বাসিন্দা শোভা (২৫) এবং বিমলা (২৩)। শনিবার তাঁদের বিয়ে ছিল। বাড়িতে ভিড় ছিল আত্মীয়স্বজনদের। সকলেই নানা রীতিআচার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে খাওয়াদাওয়া করে দুই বোন বাড়ির দোতলায় নিজেদের ঘরে ঘুমাতে যান। সেই পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু রাতের দিকে কোনও এক প্রয়োজনে দুই বোনকে ডাকতে যান এক আত্মীয়। বার বার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়াশব্দ মেলেনি। পরিবারের অন্য সদস্যেরা তখন দরজা ভেঙে ঢুকে দেখেন দুই বোন অচৈতন্য হয়ে পড়ে রয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, দুই বোন স্থানীয় এক বেসরকারি স্কুলে কাজ করতেন। প্রাথমিক অনুমান, বিয়ে নিয়ে তাঁরা অসন্তুষ্ট ছিলেন। সেই কারণে আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বিষক্রিয়ার কথা বলা হলেও ঘটনাস্থল থেকে কোনও বিষাক্ত পদার্থ বা পাত্র মেলেনি! তাতেই রহস্য ঘনাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সূর্যসাগর থানার এসএইচও হরিশচন্দ্র সোলাঙ্কি জানান, দু’জনের ভিসেরা নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট পাওয়া গেলে, স্পষ্ট হবে কী থেকে বিষক্রিয়া হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, কোনও ওষুধ বা মাদক বেশিমাত্রায় শরীরে যাওয়ার ফলেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতাদের মোবাইল ফোন সংগ্রহ করেছে। তারা কাদের সঙ্গে কথা বলতেন, সমাজমাধ্যমে তাঁদের কার্যকলাপ কী ছিল— সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। মৃত্যুর কারণ খুঁজতে মৃতাদের বাবা দীপ সিংহকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রে খবর, পারিবারিক কিছু সমস্যার কথা জানা গিয়েছে। আগে দুই বোনের বিয়ে ঠিক হয়েছিল ভীনমালের এক পরিবারে। এই বিয়ে ঠিক করেছিলেন তাঁদের মামা। তবে ভাইয়ের চাপে সেই বিয়ে ভেঙে দেন দীপক। পরে পোখরানের কাছে এক গ্রামে দুই ভাইয়ের সঙ্গে তাঁদের বিয়ে ঠিক হয়। মৃতাদের মামার দাবি, এই বিয়ে খুশি ছিলেন না দুই বোন। সেই কারণেই চরম পদক্ষেপ করেন তাঁরা।