আরাবল্লী পর্বতমালার ১০০ মিটার উচ্চতার সংজ্ঞা নির্ধারণ করার সময় ‘ফরেস্ট সার্ভে অব ইন্ডিয়া’-র (এফএসআই) মতামত সম্পূর্ণ ভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছেন এই মামলায় নিযুক্ত আদালতবান্ধব।
সুপ্রিম কোর্টে আরাবল্লী বিতর্ক মামলায় আদালতবান্ধব হিসেবে নিযুক্ত প্রবীণ আইনজীবী কে পরমেশ্বর জানান, পূর্ববর্তী সুপ্রিম কোর্টের প্যানেল পাহাড়ের সংজ্ঞা শুধু মাত্র উচ্চতার ভিত্তিতে তৈরি করেছে। এতে এফএসআই-এর দেওয়া নিচু পাহাড়ের গুরুত্ব উপেক্ষিত হয়েছে। এফএসআই-এর ডিজি গত বছর ৭ অক্টোবর যে ইমেল করেছিলেন, তাতেই ১০০ মিটার সংজ্ঞার সঙ্গে একমত নন বলে জানিয়েছিলেন এবং বিকল্পপ্রস্তাবও দেন।
এ ছাড়া, গত বছর ২২ সেপ্টেম্বরও এফএসআই তাদের রিপোর্টে পরিবেশ মন্ত্রককে পাহাড়ের ভিন্ন উচ্চতার গুরুত্ব জানিয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রের বন ও পরিবেশ মন্ত্রক সেই রিপোর্টকে সম্পূর্ণ ভাবে উপেক্ষা করে। আদালতবান্ধবের রিপোর্টে বলা হয়েছে, কমিটি শুধু উচ্চতার ভিত্তিতে আরাবল্লী পাহাড়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে, নিচু পাহাড়গুলোর পরিবেশগত ও সামাজিক গুরুত্ব উপেক্ষা করা হয়েছে।
আদালতবান্ধবের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১০০ মিটার সংজ্ঞা আরাবল্লী পাহাড়ের প্রকৃত চেহারাকে তুলে ধরে না। শুধু কিছু পাহাড়কে আলাদা করলে গোটা পর্বতমালাকে বিচ্ছিন্ন ভাবে দেখা হবে এবং খনি সংক্রান্ত কাজের জন্য নতুন এলাকা উন্মুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে নিচু পাহাড়, যা মরুভূমি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ, তা ঝুঁকিরমুখে পড়বে।
এ ছাড়া ৫০০ মিটার দূরে থাকা পাহাড়, উপত্যকা এবং সমতল এলাকা, যা আরাবল্লীর অংশ, সেগুলোর সংরক্ষণও প্রভাবিত হবে।
গত বছর ২০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রের দেওয়া সংজ্ঞা মেনে নেয় জানায়, যে কোনও ভূমি, যা ১০০ মিটার বা তার বেশি উঁচু, শুধু সেটাই আরাবল্লী পাহাড় হিসেবে গণ্য হবে। বিষয়টি নিয়ে নানা মহলের ক্ষোভের মুখে সুপ্রিম কোর্ট তাদের এই নির্দেশ স্থগিত করে নতুন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সুপারিশ করে।আদালতবান্ধব তার রিপোর্টে জানিয়েছেন, ১০০ মিটার সংজ্ঞা প্রস্তাবের সময় আরাবল্লী অঞ্চলের জলবিজ্ঞান সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যগুলো বিবেচনা করা হয়নি। এই অঞ্চলে প্রতি হেক্টরে প্রায় ২০ লক্ষ লিটার ভূ-গর্ভস্থ জল ফের মাটির নীচে পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পুরনো সংজ্ঞা মানলে এই সম্ভাবনা নষ্ট হত।
পাশাপাশি ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, “আরাবল্লী পর্বতমালা চারটি রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত। এটি একটি অবিচ্ছিন্ন বাস্তুতন্ত্র, যা সমগ্র ভূপ্রকৃতি হিসেবে সংরক্ষিত হওয়া উচিত। সংরক্ষণ পরিকল্পনা পুরো অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করবে।”
আদালতবান্ধবের পরামর্শ, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব ফরেস্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন এবং এফএসআই-এর মাধ্যমে আরাবল্লী অঞ্চলের পূর্ণ জরিপ করা হোক। এতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত করিডর, ভূগর্ভস্থ জলাধার এবং সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় এলাকা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)