কোভিড রোগীর দেহ ভেবে অন্য এক ব্যক্তির দেহ সমাহিত করা নিয়ে এ বার গোলমাল বাধল আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। মঙ্গলবার বিকেলে নাজমুল হক নামে অশোকনগরের এক বাসিন্দার মৃতদেহ নিতে এসে তাঁর আত্মীয়েরা এই গোলযোগ টের পান। বোঝা যায়, সোমবারই কোভিড রোগীদের সমাহিত করার নির্দিষ্ট জায়গায় ভুলবশত নাজমুলের দেহটি সমাহিত করা হয়েছে।
ঠিক এক দিনের ব্যবধানে মারা গিয়েছিলেন আরজি করের দু’জন রোগী। দু’জনেরই শ্বাসকষ্ট ছিল। দু’জনেরই দেহে নোভেল করোনাভাইরাস বাসা বেঁধেছে কি না যাচাইও করা হয়। কিন্তু নাজমুলের দেহে কোভিড-১৯ মেলেনি। তিনি সোমবার মারা যান। বেলগাছিয়ার বাসিন্দা, ৮৬ বছরের এক বৃদ্ধের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজ়িটিভ পাওয়া গিয়েছিল। তিনি মারা গিয়েছিলেন রবিবার।
সোমবার তাঁর আত্মীয়েরা এলে আরজি করের মর্গ থেকে ভুলবশত নাজমুলের দেহ তুলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। বেলগাছিয়ার বৃদ্ধের আত্মীয়েরা তা খেয়াল করেননি। করোনা রোগীর দেহ বলে সাবধানে নির্দিষ্ট জায়গায় তাঁকে সমাহিত করাও হয়। এতেই গোল বেধেছে। এ দিন বিকেলে নাজমুলের আত্মীয়েরা দেহ নিতে এসে বুঝতে পারেন, দেহটি নাজমুলের নয়। খবর পেয়ে বেলগাছিয়ার প্রবীণের আত্মীয়েরাও চলে আসেন। দু’তরফের বিতণ্ডা সামলাতে তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা তথা কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর শান্তনু সেন ঘটনাস্থলে আসেন। শান্তনুবাবু বলেন, ‘‘বেলগাছিয়ার প্রবীণ আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আমি ওঁদের বুঝিয়েছি।’’
নাজমুলের আত্মীয়েরা অবশ্য মৃতদেহটি ফিরে পেতে জোরাজুরি করছেন। আরজি করের অধ্যক্ষকে বিহিত চেয়ে চিঠিও লিখেছেন তাঁরা। কিন্তু করোনা রোগীর জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় মাটি খুঁড়ে দেহ বার করে আনার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আবার অন্য রোগী ভেবে করোনা রোগীর দেহটি দেওয়া নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। তবে বেলগাছিয়ার প্রবীণের আত্মীয়েরা চাইছেন দেহটি যথাযথ ভাবে সমাহিত করতে।
আরও পড়ুন: বাড়ি ফিরতে চাই, বান্দ্রায় হাজারো পরিযায়ী শ্রমিকের বিক্ষোভে লাঠিচার্জ