Advertisement
E-Paper

‘কুষ্ঠি মিলছে না, বাড়িতে মানবে না’! শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ে না-করার দোহাই ফৌজদারি অপরাধ: দিল্লি হাই কোর্ট

গত ৪ জানুয়ারি থেকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন দিল্লির এক যুবক। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগে গ্রেফতার হন। সম্প্রতি জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৯
Couple Fight

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করেছেন। কিন্তু কুষ্ঠি মিলছে না বলে পরে প্রেমিকাকে বিয়ে করতে চাননি এক যুবক। এ নিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার পরে কুষ্ঠি না-মেলার দোহাই দিয়ে বিয়ে না-করতে চাওয়া ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে গণ্য করা যাবে।

গত ৪ জানুয়ারি থেকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন দিল্লির এক যুবক। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগে গ্রেফতার হন। সম্প্রতি জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু বিচারপতি সূর্য কান্ত শর্মা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, দুই যুবক-যুবতী ভালবেসে একে অপরের ঘনিষ্ঠ হয়েছেন। দু’জন বিয়ে করবেন বলে ঠিক করেছিলেন। তার পর হঠাৎ ‘কুষ্ঠি মিলছে না’, ‘বাড়িতে মানবে না’— এই সব বলে বিয়ে করতে না-চাওয়া আদতে অজুহাত। এবং সেটা অপরাধও। এতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৬৯ ধারার অধীনে ফৌজদারি অভিযোগ আনা যেতে পারে। বিচারপতি উল্লেখ করেছেন, প্রেমিকাকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে একাধিক বার ঘনিষ্ঠ হয়েছেন অভিযুক্ত। তখন কুষ্ঠি না-মেলা বা বাড়ির অমতের কথা মনে হয়নি। তার পরেও কুষ্ঠির কারণ দেখিয়ে বিয়ে করতে না-চাওয়া অপরাধ।

অভিযুক্ত যুক্তি দিয়েছিলেন, গত আট বছর ধরে অভিযোগকারিণীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। শারীরিক ঘনিষ্ঠতা দু’জনের সম্মতিতে হয়েছে। কেউ কাউকে জোর করেননি। তাই বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ ঠিক নয় এবং তিনি জামিন পেতে পারেন। অন্য দিকে, অভিযোগকারিণী ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেমিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ করেছিলেন। তখন প্রেমিক এবং তাঁর পরিবার বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তাতে অভিযোগও তুলে নিয়েছিলেন যুবতী। কিন্তু তার পর আবার কুষ্ঠির মিল হচ্ছে না বলে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন প্রেমিক। ফলস্বরূপ, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আবার আইনের দ্বারস্থ হন যুবতী। এফআইআরের ভিত্তিতে গ্রেফতার হন প্রেমিক।

দিল্লি হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ঘটনার ধারাবাহিকতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিষয়টি নিছক তিক্ততার ফল নয়। বরং কুষ্ঠির মিলের মতো বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত। সে ক্ষেত্রে অভিযুক্তের আগেই সচেতন থাকা জরুরি ছিল। তিনি আদতে বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন। বিচারপতি পরিষ্কার করে দেন, কোনও সম্পর্ক ব্যর্থ হলে কিংবা বিয়ের পর মিল না-হলে তাতে ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা যায় না। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রতিশ্রুতির প্রকৃতি এবং সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন আচরণের ক্ষেত্রে বিএনএসের ৬৯ ধারা প্রয়োগ করা যায়।

অভিযোগের প্রকৃতি, তদন্তের সময় সংগৃহীত প্রমাণ এবং এ পর্যন্ত চার্জশিট দাখিল না-হওয়ার কারণ দর্শিয়ে শেষমেশ জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট।

Kundali Delhi High Court sex Couple
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy