দিল্লির এসইউভি-কাণ্ডে অভিযুক্ত নাবালকের মধ্যে কোনও অনুশোচনাই দেখা যাচ্ছে না। একটা মানুষের জীবনের মূল্য যে কী, তা বোঝেই না ১৭ বছর বয়সি ওই কিশোর। এমনটাই পর্যবেক্ষণ জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের। ফেব্রুয়ারির শুরুতে দিল্লির দ্বারকায় এসইউভি গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় ২৩ বছর বয়সি এক বাইকচালকের। ওই গাড়িটি চালাচ্ছিল এক নাবালক। তাঁকে ইতিমধ্যে হোমে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড।
দিল্লির এই এসইউভি-কাণ্ডের সঙ্গে অনেকে দু’বছর আগের পুণে পোর্শে-কাণ্ডেরও তুলনা টানতে শুরু করেছেন। ওই সময়েও পোর্শের চালক ছিল এক নাবালক। এ বার দিল্লিতেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ওই দুর্ঘটনার পরই অভিযুক্ত নাবালককে ধরা হয়। পরের দিন, ৪ ফেব্রুয়ারি তাকে পেশ করা হয় জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে। ১৪ ফেব্রুয়ারি বোর্ডের নির্দেশনামায় বলা হয়, কিশোরকে যখন তাদের সামনে হাজির করানো হয়, তখন তার মধ্যে কোনও অনুশোচনা দেখা যায়নি। মনে হচ্ছিল যেন সে মানুষের জীবনের দাম বোঝে না।
আরও পড়ুন:
দিল্লির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা দেশে আলোচনা শুরু হয়েছে। কী ভাবে নাবালকের হাতে গাড়ির চাবি তুলে দিলেন অভিভাবকেরা? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও অভিযুক্ত নাবালকের বাবা বলেছেন, ছেলের বয়স অল্প, তাই ভুল করে ফেলেছে। সংবাদমাধ্যমে তিনি জানান, ঘটনার সময়ে তিনি বাড়িতে ছিলেন না। গোরক্ষপুরে গিয়েছিলেন। সেখানেই জানতে পারেন ছেলে গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘‘এটি ভুল ছিল। আমার পরিবারের তরফ থেকে এই ঘটনার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।’’ তাঁর কথায়, ‘‘আমিও একজন সন্তানের বাবা। আমার ছেলে ভুল করছে। আর এর জন্য আমার পরিবারের সকলে অনুতপ্ত।’’ নাবালকের বাবার কথায়, ‘‘ওর বয়স অল্প। তাই ভুল করে ফেলেছে। গাড়ির চাবি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল। তবে আমি যদি দিল্লিতে থাকতাম, তা হলে হয়তো এই ঘটনা ঘটত না।’’