দিল্লির আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলনে ঢুকে খালি গায়ে কংগ্রেস কর্মীদের বিক্ষোভ দেখানোর নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে! আর এই ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মিলেছে বলেও দাবি করল দিল্লি পুলিশ। সেই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য দিকে, এই মামলায় যে এফআইআর হয়েছে, তা অভিযুক্ত বা ধৃতদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিল দিল্লির পটিয়ালা হাউস আদালত।
এআই সম্মেলনে কংগ্রেসি বিক্ষোভের ঘটনার তদন্ত করছে দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। মঙ্গলবার অপরাধ দমন শাখার বিশেষ পুলিশ কমিশনার দেবেশচন্দ্র শ্রীবাস্তব জানান, তাঁরা নিশ্চিত প্রমাণ পেয়েছেন এআই সম্মেলনে যে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে, তার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন। তা চলছে।
দেবেশ বলেন, ‘‘আমরা এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আট জনকে গ্রেফতার করেছি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃত সকলকে হেফাজতে নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’’
অন্য দিকে, অভিযুক্তেরা আদালতে জানান, এই মামলায় পুলিশ যে এফআইআর করেছে, তার প্রতিলিপি দেওয়া হচ্ছে না! আদালত আবেদনকারীদের সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। পুলিশ নির্দেশ দিয়েছে, অবিলম্বে এফআইআরের প্রতিলিপি দিতে হবে অভিযুক্তদের।
আরও পড়ুন:
গত শুক্রবার কৃত্রিম মেধা সম্মেলন চলাকালীন ভারত মণ্ডপমের ভিতরে প্রবেশ করে জামা খুলে বিক্ষোভ দেখান যুব কংগ্রেস কর্মীরা। তাঁদের জামায় যেমন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সমালোচনা লেখা ছিল, তেমনই ছিল ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য-সমঝোতারও সমালোচনা। নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তাঁরা। বস্তুত, ওই সময়ে কৃত্রিম মেধা সম্মেলনের জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অতিথিরা ভারত মণ্ডপমে উপস্থিত ছিলেন। যুব কংগ্রেসের এমন বিক্ষোভ নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছে দিল্লির আদালত। সেই ঘটনায় যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয়ভানু চিবকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে যে সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে শুরুতেই ধরা পড়েন চার জন। সোমবার মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়র থেকে পাকড়াও করা হয় আরও তিন জনকে। উত্তরপ্রদেশ যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রিতিক ওরফে মন্টি শুক্লকেও ললিতপুর থেকে আটক করা হয়।