আকাশপথে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও ত্রুটির দায় শুধুমাত্র পাইলটদের উপরে চাপিয়ে এ বার থেকে ক্ষান্ত হওয়া যাবে না। এমনটাই জানাল ডিজিসিএ (অসামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষ)। নিয়মিত বিমিন পরিষেবায় যুক্ত নয় (নন শিডিউলড অপারেটর), এমন সংস্থার ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বেশ কিছু বিমান দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে অসামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, জনসাধরণের কাছে এ বার থেকে তুলে ধরা হবে বিমানের বয়স ও রক্ষণাবেক্ষণের যাবতীয় তথ্য। তার উপরে নির্ভর করে হবে নন শিডিউলড অপারেটরদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত র্যাঙ্ক।
প্রসঙ্গত, ঝাড়খণ্ডের রাঁচীতে এমনই এক নন শিডিউলড অপারেটর পরিচালিত সংস্থার বিমান দুর্ঘটনার পরে মঙ্গলবার অসামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষ এই ধরনের বিভিন্ন পরিচালনকারী সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, বিমান দুর্ঘটনা রোধ ও নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্দেশ্যেই এই বৈঠক। সেখানে জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক সুবিধা, বিলাসবহুল যাত্রা বা তারকাসূচক (ভিভিআইপি) ব্যবস্থার চেয়েও অনেক বেশি প্রাধান্য দিতে হবে নিরাপত্তার দিকে।
আরও পড়ুন:
বৈঠকে আবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে বিমানের দিক পরিবর্তন করা, দেরি করা বা বাতিল করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন পাইলট ইন কম্যান্ড। তাঁর সিদ্ধান্তকে ‘সম্মান’ করতে হবে অপারেটরদের। কেউ যদি পাইলট ইন কম্যান্ডকে সম্মতি না দেন তবে তাঁকে দায়ী করা হবে এবং জবাবদিহিও করতে হবে। তাতে সন্তুষ্ট না হলে কঠোর শাস্তি বা পাঁচ বছর পর্যন্ত লাইসেন্স নিলম্বিত (সাসপেন্ড) হতে পারে। তারপরেই স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘‘নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটির জন্য শুধুমাত্র পাইলটদের দোষ দেওয়া যাবে না।’’
নিরাপত্তার স্বার্থে নন শিডিউলড অপারেটরদের ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর)-এর অডিট একাধিকবার করা হবে। বারবার যাচাই করা হবে স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ও সম্প্রচার ব্যবস্থা (এডিএস-বি)। জ্বালানি সংক্রান্ত তথ্য-সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি অনুমোদিত না হলে বা কোনও রকমের ভুয়ো তথ্য থাকছে কি না সে বিষয়ে বাড়তি নজর দেওয়া হবে। বৈঠকে জানানো হয়েছে, পুরনো বিমানের ক্ষেত্রে ও কোনও বিমানের মালিকানা পরিবর্তনের সময়ে বাড়তি নজরদারি থাকবে। প্রতি মুহূর্তের আবহাওয়া জানতে প্রযুক্তি উন্নত করা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত মানদণ্ড মানার কথা বলা হয়েছে। আরও জানা গিয়েছে, মার্চের শুরুতে প্রথম পর্যায়ের অডিটের পরেই বাকি থাকা সংস্থাগুলিকে নিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের অডিট শুরু হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মশালা করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবারের বৈঠকে একাধিক বিমান দুর্ঘটনার কারণ হিসাবে উঠে আসে বিভিন্ন কারণ। প্রাথমিক কারণ হিসাবে মনে করা হচ্ছে, বিমান পরিচালনার মানদন্ড না মানা, অপর্যাপ্ত উড়ান পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণের অভাব থেকেই দুর্ঘটনা।
প্রসঙ্গত, বেশ কিছু ত্রুটি খুঁজে পাওয়ার পরে মঙ্গলবার অসামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার ভিএসআর ভেঞ্চার্স সংস্থার চারটি বিমানের উড়ান বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে। প্রসঙ্গত, এই সংস্থার বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রয়াত হয়েছিলেন এনসিপি নেতা অজিত পওয়ার-সহ পাঁচ জন। ওই দুর্ঘটনার পরে সংস্থার বিমানগুলি পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই পরীক্ষায় বেশ কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। তার পরেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই সংস্থার চারটি বিমান (ভিটি-ভিআরএ, ভিটি-ভিআরএস, ভিটি-ভিআরভি ও ভিটি-টিআরআই) চলাচলে নিষেধাজ্ঞার। জানানো হয়েছে, সঠিক মানদণ্ডে উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।