Advertisement
E-Paper

বাংলাদেশে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হলেন দীনেশ ত্রিবেদী! সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগেই, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে দিল নয়াদিল্লি

এত দিন বাংলাদেশে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন প্রণয় বর্মা। তাঁর জায়গায় এ বার দায়িত্বগ্রহণ করবেন দীনেশ। বাংলাভাষী দীনেশ শুধু রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল সম্পর্কেই নয়, সমগ্র বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে তিনি সম্যক অবহিত।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৪৬
দীনেশ ত্রিবেদী।

দীনেশ ত্রিবেদী। —ফাইল চিত্র।

সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছিল আগেই। এ বার বাংলাদেশে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসাবে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিয়োগ করা হল দীনেশ ত্রিবেদীকে। সোমবার বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে, দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশনার (রাষ্ট্রদূত) হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। শীঘ্রই তিনি দায়িত্বগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রক।

এত দিন বাংলাদেশে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন প্রণয় বর্মা। তাঁর জায়গায় এ বার দায়িত্বগ্রহণ করবেন দীনেশ। অন্তর্বর্তী সরকার-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে তারেক রহমানের জমানায় নয়াদিল্লির এই নিয়োগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাভাষী দীনেশ শুধু রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল সম্পর্কেই নয়, সমগ্র বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে তিনি সম্যক অবহিত।

কংগ্রেস, জনতা দল হয়ে তৃণমূল এবং পরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন দীনেশ। রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গেও দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন তিনি। বস্তুত, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জমানায় দিল্লি এবং ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্কের আকাশে এক কালো মেঘ জমতে শুরু করেছিল। পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মসৃণ করতে উদ্যোগী হয়েছে দু’দেশই। এ অবস্থায় বাংলাদেশে হাই কমিশনার পদে দীনেশের নিয়োগের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্র যে দীনেশকে বাংলাদেশে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিয়োগ করতে চলেছে, সে খবর আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল। এ বার তাঁর নিয়োগের কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে তিনি কবে ঢাকায় গিয়ে দায়িত্বগ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে নির্দিষ্ট কোনও দিনক্ষণ জানানো হয়নি।

গুজরাতি দম্পতি হীরালাল ত্রিবেদী এবং উর্মিলাবেন ত্রিবেদীর কনিষ্ঠপুত্র দীনেশ বাংলায় ঝরঝরে কথা বলেন। হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক হন। তার পর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ। আশির দশকে কংগ্রেসে যোগ দেন দীনেশ। কিন্তু ১৯৯০ সালে জনতা দলে চলে যান। ১৯৯০-’৯৬ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সাংসদ ছিলেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তৃণমূল গঠন করেন, সেই দলে যোগ দেন দীনেশ এবং দলের প্রথম সাধারণ সম্পাদক হন।

২০০২-’০৮ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ ছিলেন। ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন। ওই আসনে জিতে কেন্দ্রের মনমোহন সিংহ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হন। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জেতার পর মমতা রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়লে, সেই দায়িত্ব সামলান দীনেশ। কিন্তু রেলের ভাড়া বাড়ানোয় তাঁর উপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন মমতা। তাঁকে রেলমন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

২০১৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তিনি আবার তৃণমূলের প্রার্থী হন। কিন্তু সে বার বিজেপির অর্জুন সিংহের কাছে হেরে যান। তার পর তৃণমূল তাঁকে আবার রাজ্যসভায় পাঠায়। কিছু দিন পর থেকে তৃণমূলের সঙ্গে ‘দূরত্ব’ তৈরি হয় দীনেশের। ২০২১ সালে ৬ মার্চ পদ্মশিবিরে যোগ দেন তিনি। রাজ্যসভার সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দেন।

dhaka Bangladesh dinesh trivedi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy