পাকিস্তান এবং পাকিস্তানিদের প্রশংসা শোনা গেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ়’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “পাকিস্তানিরা দারুণ মানুষ। ওঁরা অতুলনীয় জিনিসপত্র তৈরি করে।” ট্রাম্পের এই পাক-প্রশংসা বাণিজ্যিক অনুষঙ্গে করা হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, পাকিস্তান আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য করতে আগ্রহী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই দাবি করলেও ওয়াশিংটন এবং ইসলামাবাদের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখনও আছে। পরিসংখ্যান বলছে, পাকিস্তান আমেরিকার কাছ থেকে ৫০০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি)-এর পণ্য কিনে থাকে। আর আমেরিকা পাকিস্তান থেকে কেনে মাত্র ২০০ কোটি ডলারের পণ্য।
ইতিমধ্যে পাকিস্তান থেকে আমেরিকায় রফতানি হওয়া পণ্যে ২৯ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। ভারত থেকে রফতানি হওয়া পণ্যে চাপিয়েছেন ২৭ শতাংশ শুল্ক। তবে শুল্ক নিয়ে একটি আপসরফায় আসতে বাণিজ্যিক আলোচনা শুরু হয়েছিল ওয়াশিংটন এবং নয়াদিল্লির মধ্যে। তবে হঠাৎই সেই আলোচনা থমকে গিয়েছে। এই আবহে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ভারত সম্পর্কে বলেছেন, ‘বিশ্বের সর্বাধিক শুল্ক চাপানো দেশ’। দাবি করেছেন যে, মার্কিন পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্কই মকুব করতে চায় ভারত। তবে ট্রাম্পের বক্তব্য, তিনি এই বিষয়ে তাড়াহুড়ো চান না।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ভারত ইতিমধ্যেই মোটরবাইক-সহ আমেরিকার কিছু পণ্যে আমদানি শুল্ক কমিয়েছে। তবে বাকি পণ্যগুলির বিষয়ে আলোচনা এখনও থমকে রয়েছে। এই আবহে পাকিস্তানের প্রশংসা করে ট্রাম্প নয়াদিল্লিকে কোনও বার্তা দিতে চাইলেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ভারত-পাক সামরিক সংঘাত থামাতে বাণিজ্যকে ঢাল করেছিলেন বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি ক্রমে খারাপ হচ্ছিল। হঠাৎ করে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দেখা যেতে শুরু করল। আমরা এটিকে থামাতে পেরেছি। দু’দিন আগেও আমার মনে হচ্ছিল, হয়তো এটির সমাধান হয়নি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, সমস্যা মিটে গিয়েছে। আমরা ওদের (ভারত এবং পাকিস্তান) সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে কথা বলেছিলাম। আমরা বলেছিলাম যুদ্ধের বদলে ব্যবসা করার কথা।”
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এর আগেও ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। গত সোমবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তাঁর প্রশাসন ভারত এবং পাকিস্তানকে বলেছিল, সংঘর্ষ বন্ধ না-করলে আমেরিকা এই দুই দেশের সঙ্গে কোনও বাণিজ্য করবে না। যদিও ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে নস্যাৎ করে দেয় ভারত। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করে দেয় যে, গত ৭-১০ মে-র (ভারত-পাক সংঘর্ষের সময়) মধ্যে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার কোনও আলোচনাতেই বাণিজ্যের প্রসঙ্গ আসেনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২ ফেব্রুয়ারি নিজেই সমাজমাধ্যমে এই ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারতের উপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন তিনি।
- ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীই তাঁকে শুল্ক সমঝোতার জন্য অনুরোধ করেন বলে জানান ট্রাম্প। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, আমেরিকার কাছ থেকে আরও বেশি তেল কিনবে ভারত।
-
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সার! ১৫ নয়, ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কই ধার্য করল মার্কিন সরকারি এজেন্সি, মঙ্গলবার থেকেই হল কার্যকর
-
১০ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশ! সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবার শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের
-
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতায় বদল নেই, নিজের দেশের সুপ্রিম রায়ে ‘হতাশ’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
-
কোর্ট বেআইনি বলায় কি শুল্কের টাকা ফেরত দিতে হবে? ১০% নতুন শুল্ক আরোপ করে ঘুরপথে আয়ের ভাবনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের!
-
কবে থেকে কমছে ২৫% শুল্ক? জানাল আমেরিকা! রুশ তেল নিয়ে সিদ্ধান্ত দেশীয় সংস্থাগুলির দিকে ঠেলল মোদী সরকার