২১৭০ কোটির আর্থিক দুর্নীতি মামলায় মুম্বই এবং গুজরাতের সুরাত থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ধৃতেরা হলেন, সুরাতের নিকুঞ্জ প্রবীণভাই ভট্ট এবং মুম্বইয়ের সঞ্জয় কোটাডিয়া। আর্থিক তছরুপ, অপহরণ এবং প্রতারণার মামলায় এই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের সঙ্গে বিটকানেক্ট ক্রিপ্টো ফ্রড এবং তার সঙ্গে জড়িত আর্থিক দুর্নীতির যোগ রয়েছে। এই প্রতারণার জাল আন্তর্জাতিক স্তরেও ছড়িয়ে বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
প্রসঙ্গত, সুরাতে সিআইডি ক্রাইম থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। সেই আফআইআরে শৈলেশ বাবুলাল ভট্ট, কুর্জিভাই কুম্ভানি-সহ বেশ কয়েক জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেই মামলারই তদন্তভার নেয় ইডি। সূত্রের খবর, সতীশ কুম্ভানি নামে এক ব্যক্তি বিটকানেক্টকয়েন নামে একটি বিনিয়োগ সংস্থা খুলে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন। অনেকেই ভাল রিটার্নের আশ্বাস পেয়ে সতীশ কুম্ভানির সংস্থায় বিনিয়োগ করেন। অভিযোগ, তার পর থেকেই বেপাত্তা হয়ে যান সতীশ।
আরও পড়ুন:
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, বিনিয়োগকারীদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল প্রতি মাসে ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রতি দিন ১ শতাংশ লভ্যাংশ দেখানো হত। বছরে প্রায় ৩৭০০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তদন্তকারীরা দেখেন, এই সব আশ্বাস ছিল সম্পূর্ণ ভুয়ো। তদন্তে জানা গিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের টাকা সরাসরি অভিযুক্তদের ডিজিটাল ওয়ালেটে স্থানান্তরিত হয়েছে। অভিযোগ, বিনিয়োগ যখন আটকে গিয়েছিল, সেই সময় বাবুলাল ভট্ট অপহরণের রাস্তা বেছে নেন। সতীশ কুম্ভানির দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেন। মুক্তিপণ হিসাবে ২২৫৪ বিটকয়েন, ১১০০০ লাইটকয়েন এবং সাড়ে ১৪ কোটি টাকা নগদ আদায় করেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, এই অপহরণে সহযোগিতা করেছিলেন নিকুঞ্জ ভট্ট। মুক্তিপণ হিসাবে যে টাকা এবং বিটকয়েন আদায় হয়েছিল, সেই অর্থ ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন বাবুলাল এবং নিকুঞ্জ। এই দু’জনের সূত্র ধরে মুম্বইয়ের সঞ্জয় কোটাডিয়ার হদিস পায় ইডি। সঞ্জয়ের ডিজিটাল ওয়ালেটেও ২১ কোটি টাকা স্থানান্তরিত করা হয়। এ ছাড়াও সাড়ে ৪ লক্ষ ইউএসডিটি শৈলেশ ভট্টের কাছ থেকে সরাসরি সঞ্জয়ের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।