Advertisement
E-Paper

রামমন্দিরেও টাকার বিনিময়ে চাকরি? নজরে ইস্তফা দেওয়া ট্রাস্টি অনিল মিশ্রের ভূমিকা! খতিয়ে দেখা হচ্ছে সম্পত্তিও

চাকরির সুপারিশ করার ব্যাপারে টাকা লেনদেনের গন্ধ পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, চাকরির সুপারিশ দেওয়ার জন্য নাকি ‘কমিশন’ নিতেন অনিল মিশ্র!

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ১২:০৬
Ex-trustee Anil Mishra under lens amid donation theft probe

তদন্তকারীদের আতশকাচের নীচে রামমন্দিরের প্রাক্তন ট্রাস্টি অনিল মিশ্র। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দানের কোটি কোটি টাকা এবং মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল গোটা দেশ। কী ভাবে দানের টাকা চুরি হত, ধৃত অভিযুক্তের স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে সেই তথ্য, খবর পুলিশ সূত্রে। দাবি, ওই অভিযুক্ত জানিয়েছেন, মন্দিরচত্বর থেকে চুরি করা নগদ এবং মূল্যবান সামগ্রী বাইরে বার করে নিয়ে যাওয়ার আগে সাময়িক ভাবে শৌচাগারে লুকিয়ে রাখা হত। অন্য দিকে, এই চুরিকাণ্ডে তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর প্রাক্তন সদস্য অনিল মিশ্র। রামমন্দিরে কর্মী নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

এক সূত্র উদ্ধৃত করে এনডিটিভি জানিয়েছে, অবিনাশ মিশ্র নামে এক অভিযুক্তকে জেরা করে অনিলের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ জেগেছে তদন্তকারীদের মনে। জেরায় বেশ কয়েক বার অনিলের নাম উঠেছে। অবিনাশের বয়ান অনুযায়ী, রামমন্দিরের অধিকাংশ কর্মচারী নিযুক্ত হতেন অনিলের সুপারিশে। সূত্রের খবর, মন্দিরের অন্তত ১২৫ জন কর্মী তীর্থক্ষেত্রের প্রাক্তন ট্রাস্টির সুপারিশে চাকরি পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েক জন অনিলের আত্মীয়-পরিজন।

চাকরির সুপারিশ করার ব্যাপারে টাকা লেনদেনের গন্ধ পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, চাকরির সুপারিশ দেওয়ার জন্য নাকি ‘কমিশন’ নিতেন অনিল! সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। সূত্রের খবর, সিট যে তদন্তের রিপোর্ট জমা করবে, তাতে এই কমিশনের উল্লেখ থাকতে পারে।

তদন্তকারী সূত্রে খবর, দানের টাকা চুরির ঘটনার তদন্তে অনিলের কয়েকটি সম্পত্তিও নজরে রয়েছে। সিট খতিয়ে দেখছে, ট্রাস্টি হওয়ার পর অনিলের সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে কি না! বাড়লে কতটা পরিমাণ বেড়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই কমিশনের বিষয়ে দুই অভিযুক্ত অনুকল্প মিশ্র এবং লবকুশ মিশ্রের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ। সেই বিষয়টিও অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনার তদন্তে সিট এখনও পর্যন্ত আট জনকে গ্রেফতার করেছে। হিন্দুস্তান টাইমস তদন্তকারী সূত্র উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ধৃতদের মধ্যে ছ’জনই বারাণসীর একই বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার কর্মী ছিলেন। ওই সংস্থাই রামমন্দিরের দানের টাকা গোনার কাজে লোক দিত।

মন্দিরচত্বর থেকে কী ভাবে দানের টাকা এবং সামগ্রী সরানো হত, ধৃত অবিনাশ শুক্লকে জেরা করে তার কিছুটা আভাস পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, জেরায় তিনি তিন কোটি টাকা চুরির কথা স্বীকার করেছেন। অবিনাশ জানিয়েছেন, গণনার সময় একজন টাকা সরাতেন আর অন্যেরা তাঁকে ঘিরে থাকতেন, যাতে সিসিটিভি ক্যামেরায় চুরি ধরা না-পড়ে। তার পরে সেই টাকা নিয়ে শৌচাগারে লুকিয়ে রাখা হত। পরে সুযোগ বুঝে অভিযুক্তেরা শৌচাগার থেকে চুরির টাকা এবং সামগ্রী সরিয়ে ফেলতেন। তবে সেই সরানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত খুবই সন্তর্পণে। মন্দিরের কোথায় কোথায় ক্যামেরা রয়েছে, তা জানতেন অভিযুক্তেরা। সেই ক্যামেরাগুলির নজরদারি এড়িয়ে মন্দিরের বাইরে নিয়ে যাওয়া হত চুরি করা টাকা এবং সামগ্রী।

Ram Mandir donation Theft

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy