Advertisement
E-Paper

হিন্দু বিবাহকে ‘বৈধ’ করতে সাত পাকে ঘোরাও আবশ্যিক, এর জন্য শুধু বিয়ের রেজিস্ট্রেশন যথেষ্ট নয়: গুজরাত হাই কোর্ট

অহমদাবাদের বাসিন্দা এক মহিলার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ব্রিটেননিবাসী কৌশল সোনারের। কিন্তু কৌশলের দাবি, তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তাঁকে না জানিয়েই বিয়ের নথিপত্রে সই করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ১২:২৫

— প্রতীকী চিত্র।

হিন্দু বিবাহকে ‘বৈধ’ বলে ঘোষণা করার জন্য শুধুমাত্র বিয়ের রেজিস্ট্রেশনই যথেষ্ট নয়। এর জন্য বর-বধূর সপ্তপদী গমন (সাত পাকে ঘোরা)-সহ বিয়ের আচার-অনুষ্ঠানও পালন করতে হবে। সম্প্রতি এক মামলায় এমনটাই জানিয়েছে গুজরাত হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিয়ে শুধু একটি ‘নাচগানের’ অনুষ্ঠান নয়।

গুজরাতের অহমদাবাদের বাসিন্দা এক মহিলার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ব্রিটেননিবাসী কৌশল সোনারের। বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের নথিতে কৌশলের সই-ও রয়েছে। কিন্তু এই বিয়ে মানতে নারাজ তিনি। কৌশলের দাবি, তাঁকে না জানিয়েই বিয়ের নথিপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ কৌশলের। এ নিয়ে প্রথমে গুজরাতের এক পারিবারিক আদালতে মামলা করেন তিনি। কিন্তু আদালতের রায় তাঁর বিরুদ্ধে যায়। গত বছরের নভেম্বরে পারিবারিক আদালত জানায়, ওই বিয়ে বৈধ। পরে ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গুজরাত হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন কৌশল।

সম্প্রতি গুজরাত হাই কোর্টের বিচারপতি ইলেশ ভোরা এবং বিচারপতি আরটি বছনির বেঞ্চ ওই মামলার রায় দিয়েছে। নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে হাই কোর্ট জানিয়েছে, ওই বিয়ের কোনও বৈধতা নেই। এই বিয়ের ক্ষেত্রে কোনও বৈবাহিক আচার-অনুষ্ঠান পালন হয়নি, সে বিষয়টির কথা উল্লেখ করে আদালত। দুই বিচারপতির বেঞ্চ হিন্দু বিবাহ আইনের কথাও তুলে ধরে। আদালত জানায়, হিন্দু বিবাহ আইনের ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ‘সপ্তপদী’র মতো প্রথাগত আচার-অনুষ্ঠান মেনে হিন্দু বিবাহ সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। এই আচার-অনুষ্ঠানগুলি হিন্দু বিবাহকে পূর্ণাঙ্গ ও আইনত বৈধ করে তোলে।

কৌশল আদালতে জানান, ওই মহিলার সঙ্গে যে তাঁর বিয়ে হয়েছে তা দীর্ঘ সময় তিনি জানতেনই না। তাঁর দাবি, ওই মহিলার সঙ্গে তাঁর কোনও বিয়েই হয়নি। কোনও আচার-অনুষ্ঠানও পালিত হয়নি। তাঁরা কখনও স্বামী-স্ত্রী হিসেবেও থাকেননি। এমনকি তাঁর সম্মতি ছাড়াই প্রতারণামূলক ভাবে বিয়ের নথিপত্র স্বাক্ষর করানো হয়েছে বলেও আদালতে অভিযোগ জানান তিনি। ওই মহিলাও আদালতে স্বীকার করে নেন যে তাঁদের বিয়ের কোনও আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়নি। স্বামী-স্ত্রী হিসাবে তাঁরা কখনও একসঙ্গে থাকেননি বলেও আদালতে জানান তিনি। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে হাই কোর্ট জানায়, পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।

Marriage Gujarat High Court

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy