Advertisement
E-Paper

জমি ফেরত চায় টানা-ভকতরা

ওঁদের জীবনের প্রতিটি পরতে মহাত্মা গাঁধীর ছোঁয়া। এখনও ওঁদের অনেকেই পরেন খাদির সাদা পোশাক। জাতীয় পতাকার নিয়মিত পুজো করে নিজেদের সবথেকে বড় ‘দেশপ্রেমী’ বলে দাবি করেন ওঁরা। ঝাড়খণ্ডের সেই একনিষ্ঠ গাঁধী অনুগামী ‘দেশপ্রেমীরাই’ এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছেন। রাঁচিতে আজ থেকে আন্দোলনে নেমেছেন তাঁরা। দাবি তুলেছেন, দেশের স্বাধীনতার লড়াই করতে গিয়ে তাঁরা নিজেদের ভিটেমাটি সব হারিয়েছেন। সেই ভিটেমাটি ফেরত চাই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৬ ০৩:১৮
আন্দোলনে টানা-ভকতরা। শনিবার রাঁচিতে।—নিজস্ব চিত্র।

আন্দোলনে টানা-ভকতরা। শনিবার রাঁচিতে।—নিজস্ব চিত্র।

ওঁদের জীবনের প্রতিটি পরতে মহাত্মা গাঁধীর ছোঁয়া। এখনও ওঁদের অনেকেই পরেন খাদির সাদা পোশাক। জাতীয় পতাকার নিয়মিত পুজো করে নিজেদের সবথেকে বড় ‘দেশপ্রেমী’ বলে দাবি করেন ওঁরা। ঝাড়খণ্ডের সেই একনিষ্ঠ গাঁধী অনুগামী ‘দেশপ্রেমীরাই’ এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছেন। রাঁচিতে আজ থেকে আন্দোলনে নেমেছেন তাঁরা। দাবি তুলেছেন, দেশের স্বাধীনতার লড়াই করতে গিয়ে তাঁরা নিজেদের ভিটেমাটি সব হারিয়েছেন। সেই ভিটেমাটি ফেরত চাই।

ঝাড়খণ্ডের ওঁরাও সম্প্রদায়ের এই মানুষরা ‘টানা-ভকত’ নামেই পরিচিত। এঁদের বেশির ভাগেরই বসতি ঝাড়খণ্ডের গুমলা, লোহারদাগা, লাতেহার, সিমডেগা, রাঁচি জেলায়। টানা-ভকত সম্প্রদায়ের মানুষদের দাবি, স্বাধীনতার আগে লোহারদাগার বিষণপুরে তাঁরা নিজেদের জমিতে চাষ করে ফসল ফলানোর জন্য ইংরেজদের খাজনা দিতে অস্বীকার করেন। ইংরেজদের খাজনা না দিয়ে অসহযোগিতা করায় তাঁদের জমি কেড়ে নেয় তত্কালীন ইংরেজ সরকার।

রাঁচির এই সভায় বিভিন্ন জেলা থেকে টানা-ভকত সম্প্রদায়ের কয়েকশো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন টানা-ভকত সম্প্রদায়ের সব থেকে বড় নেতা, যাত্রা ওঁরাওয়ের নাতি, বিশ্ব ওঁরাও। তিনি বলেন, “গাঁধীজি যখন রাঁচির বেড়াতে আসেন তখন তাঁর সঙ্গে যাত্রা ওঁরাওয়ের দেখা হয়। গুমলায় খাজনা না দেওয়ার অসহযোগিতা তত দিনে শুরু হয়ে গিয়েছে। গাঁধীজি এই আন্দোলনকে সমর্থন করেন।”

টানা-ভকতদের এই সভা শুরু হয় একেবারেই নিজস্ব ঘরানায়। তুলসি গাছে জল দিয়ে সভার উদ্বোধন করেন ২০১৫ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত অশোক ভকত। অশোকবাবু ঝাড়খণ্ডের পিছিয়ে পড়া উপজাতিদের উন্নয়নের জন্য কাজ করে গত বছর পদ্মশ্রী পেয়েছেন। তিনি বলেন, “আন্দোলনের জেরে এই গরিব উপজাতিদের জমি ইংরেজরা কেড়ে নেয়। গাঁধীজির আদর্শে ও ভাবধারায় জীবনযাপন করা এই সম্প্রদায় আস্তে আস্তে বিলুপ্তও হয়ে যাচ্ছে। এদের বাঁচাতেই হবে।”

উল্লেখ্য, গাঁধীজির অসহযোগ আন্দোলনকে গুমলা থেকে শুরু করে অন্যান্য জেলায় ‘টেনে’ নিয়ে গিয়েছিল বলেই এই সম্প্রদায় লোকমুখে ‘টানা- ভকত’ নামে পরিচিত হয়ে যায়। আজকের প্রজন্মের টানা-ভকতরা জানান, আজও তারা গাঁধীজির আদর্শকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। আদিবাসীদের অধিকাংশের যেখানে মদ্যপানের অভ্যাস, সেখানে টানা-ভকতরা কেউ মদ ছুঁয়েও দেখেন না। নিরামিষ খান। বেশির ভাগ সময় খাদি পরেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ভূমি, রাজস্ব বিভাগের মন্ত্রী, বিজেপির অমর বাউরি। তিনি বলেন, “কোনও রাজনৈতিক রং না দেখে এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে যে জমি বহুদিন আগে অন্য কারও নামে হয়ে গিয়েছে, সেই সব জমির জট কাটাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা ভেবে দেখবে সরকার।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy