কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে বিবৃতি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবীয়। তিনি জানালেন, কোভিড নিয়ে হঠাৎ উদ্ভুত পরিস্থিতির বিষয়ে কেন্দ্র কী কী পদক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি রাজ্যগুলিকেও বেশ কিছু পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।
উৎসবের মরসুমে কোভিড নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে সরকার। দেশ জুড়ে টিকাকরণে জোর দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চিনের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। দেশের পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখছে সরকার। রাজ্যগুলিতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় স্তরে নজরদারি আরও বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কোভিডের বুস্টার টিকা নেওয়ার জন্য নাগরিকদের সচেতনা বৃদ্ধির কথা বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রাজ্যগুলিকে বুস্টারের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একাধিক পদক্ষেপ করতে বলেছে কেন্দ্র। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, তৃতীয় করোনা টিকা নেওয়ার জন্য নাগরিকদের আগ্রহ বৃদ্ধি করতে হবে।
আরও পড়ুন:
পাশাপাশি উৎসবের মরসুমে দূরত্ববিধি মেনে চলা, মাস্ক এবং নিয়মিত স্যানিটাইজ়ার ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছে কেন্দ্র। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘মহামারি এখনও শেষ হয়নি। কোভিড আমাদের শত্রু। সে প্রতিনিয়ত রূপ বদলাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি রাখতে হবে।’’
বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের উপরেও বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার সংসদে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে বিমানবন্দরগুলিতে শুরু হয়ে গিয়েছে করোনা পরীক্ষা। এ ছাড়া, স্থানীয় স্তরে জিনোম সিকুয়েন্সিংয়ের উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।
কোভিড ঠেকাতে কী কী পদক্ষেপ করা হবে, সে বিষয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক একটি বৈঠকে বসে বুধবার। কোভিড নিয়ে একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কথা আলোচনা হয়েছে সেই বৈঠকে। সামনেই বড়দিন, নতুন বছর। উৎসবের আমেজে মেতে উঠবে গোটা দেশ। সেই পরিস্থিতিতে চিনের করোনা বিস্ফোরণ ভাবিয়ে তুলেছে বিশেষজ্ঞদের।
দেশে যদিও করোনা পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। তবে করোনার যে উপরূপ চিনকে নতুন করে আন্দোলিত করেছে, তা ভারতেও মিলেছে। ওমিক্রন বিএফ.৭-এর হদিস মিলেছে ভারতের দুই রাজ্যে। গুজরাত এবং ওড়িশায় ২ জন করে করোনার এই চিনা উপরূপে আক্রান্ত হয়েছেন।
উৎসবের মরসুমে কোভিড নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে সরকার। গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ।