রিপোর্টে সব অভাব-অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছিলেন অধ্যক্ষা শিল্পীরানি বর্মন। বিভাগীয় প্রধানরাও নিজেদের সমস্যার বিষয়ে জানাচ্ছিলেন। কর্মী নেই, মেডিসিনের অভাব। আরও দালানবাড়ি চাই।
কিন্তু শ্রোতা যে মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। শত ব্যস্ততার মধ্যেও ‘হোমওয়ার্ক’ ছাড়া কোনও বৈঠকে যান না। তাই সমস্ত অভাব-সমস্যার কথা মেনে নিয়েও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মোটেও ভাল চলছে না। তিনি শুধু দু’টি তথ্য তুলে ধরেন। এখানে সদ্যোজাত শিশুমৃত্যুর হার বর্তমানে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ। তা অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজের চেয়ে বেশি। এমনকী, ২ বছর আগে শিলচর মেডিক্যাল কলেজের পরিস্থিতি এতটা খারাপ ছিল না। তখন সেই হার ছিল ১০ শতাংশ। প্রসূতির মৃত্যু হারেও যে এই হাসপাতাল অন্যদের ছাড়িয়ে, ক্ষোভের সঙ্গে সে কথাও জানান বিভাগীয় মন্ত্রী। পরিসংখ্যান তুলে ধরেন বলেন, ‘‘১ হাজার ১৫০ জন প্রসূতি মারা যান শিলচর মেডিক্যালে। অনেক দিন থেকে এখানে বন্ধ ল্যাপরোস্কোপিক টেস্ট।’’
আলট্রাসাউন্ড বিভাগের অভিযোগ, তাদের ৭টি যন্ত্রের মধ্যে ২টি কাজ করে। ১৮ জন শিক্ষক, ১০ জন ছাত্র রয়েছেন সেখানে। কিন্তু স্থানাভাব তীব্র। নতুন যন্ত্র এলেও বসানোর জায়গা মিলবে না। এতে রেগে ওঠেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সুপারকে বলেন, ‘‘যন্ত্র বসানোর জায়গা দিতে না পারলে আপনার চেম্বার ছেড়ে দেবেন।’’
চিকিৎসকদের রোগী দেখা, রিপোর্ট দেওয়ার মতো বিষয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বারবার তুলনা টানেন দু’বছর আগের দিনগুলির সঙ্গে। তখন হিমন্ত বিশ্ব শর্মাই ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘২ বছরে কী এমন ঘটল যে, এতটা অবনতি!’’ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে তিনি সব কিছু ঠিক করে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সতর্কতার সুরে জানিয়ে দেন, পুজোর পর ফের বরাক সফরে আসছেন। তখন এক দিন মেডিক্যালে সময় দেবেন। সব বিভাগের কাজকর্ম, সমস্যা খতিয়ে দেখবেন। তাঁর নির্দেশ— প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সান্ধ্য বহির্বিভাগ চালু করতে হবে। সমস্ত পরীক্ষার রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগীদের পৌঁছে দেওয়া চাই। যে সব পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য এখন ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হয়, তা ৭ দিনে নামিয়ে আনতে হবে।
হাসপাতালের সুপার এ এস বৈশ্য জানান, অনেক ওষুধ দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁরা কিছু স্যালাইন ছাড়া সরকারের কাছ থেকে কিছু পান না। উত্তরে মন্ত্রী জানান, তিনি গুয়াহাটি ফিরেই সমস্ত ওষুধ পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন। হাসপাতাল কী কলেজ, বড় সমস্যা এখন কর্মীর অভাব। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মন্ত্রীকে জানান, শিক্ষক-অশিক্ষক, গেজেটেচ-ননগেজেটেড সর্বত্র শূন্যপদ পড়ে রয়েছে। শিক্ষকদের ২৯০ পদের মধ্যে ৪৫টি ফাঁকা। মেট্রন প্রয়োজন ৫ জন। পদ রয়েছে ২টি। তাও ১টি ফাঁকা। ওয়ার্ড সিস্টার ১৩টির একটিতেও কেউ নেই। স্টাফ নার্সের ফাঁকা পদ ৭৯টি। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতেও বহু পদ ফাঁকা। বায়োকেমিস্ট্রিতে তিন জন টেকনিসিয়ানের সবাই গত বছর অবসর নিয়েছেন। এখনও সেখানে কাউকে নেওয়া হয়নি।
মন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত তিন জনকেই ডেকে নিতে নির্দেশ দেন। সঙ্গে জানান, আদালতে একটি মামলা ঝুলে থাকায় শূন্যপদ পূরণে কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবু তিনি সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। তাঁর কথায়, ‘‘মেডিক্যালে ৬১৯ বিঘা জমি রয়েছে। জায়গা নেই, দালানবাড়ি নেই, বললেই হবে না।’’ তিনি ডেন্টাল কলেজের জায়গার ব্যবস্থা করতে সুপারকে বলেন। মন্ত্রী বিশ্বশর্মা জানান, আগামী বছর এখানে ডেন্টাল কলেজ চালু হবে। সে জন্য জমির ব্যবস্থা করতে হবে।