Advertisement
E-Paper

জনতার নাড়ি বুঝেই হবে হিমন্তের বাজেট

রাজ্যের আগামী বাজেটকে আরও বেশি জনমুখী ও সুপরিকল্পিত চেহারা দিতে অভিনব উদ্যোগী হল অসমের বিজেপি জোট সরকার। রাজ্যের সব বিধায়কের সঙ্গে আলোচনায় বসে বাজেটের রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু করলেন অর্থমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬ ০২:১৮
বাজেট-বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, অর্থমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। মঙ্গলবার গুয়াগাটিতে। -নিজস্ব চিত্র

বাজেট-বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, অর্থমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। মঙ্গলবার গুয়াগাটিতে। -নিজস্ব চিত্র

রাজ্যের আগামী বাজেটকে আরও বেশি জনমুখী ও সুপরিকল্পিত চেহারা দিতে অভিনব উদ্যোগী হল অসমের বিজেপি জোট সরকার। রাজ্যের সব বিধায়কের সঙ্গে আলোচনায় বসে বাজেটের রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু করলেন অর্থমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা।

রাজ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চা-জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ইতিমধ্যেই বিস্তর প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে নতুন সরকার। হিমন্ত নিজে আসন্ন বাজেটে বিভিন্ন খাতে টাকা বরাদ্দ করার কথা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু হাতে সীমিত অর্থ। তার মধ্যেই সব উন্নয়ন প্রকল্পে টাকা ভাগ করে দেওয়া, জনকল্যাণে অর্থ বরাদ্দ করা ও প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিগুলি রক্ষা করার ভার হিমন্ত তথা সরকারের কাঁধে। শীতকালীন অধিবেশন বাতিল করে, মার্চের বদলে ফেব্রুয়ারিতে বাজেট এগিয়ে এনে ইতিমধ্যেই প্রথা ভেঙেছে বর্তমান সরকার। এ বার বাজেটের আগে সব বিধায়কের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের অবস্থা ও নিজের এলাকার সমস্যার কথা জেনে বাজেট তৈরির ব্যতিক্রমী কর্মসূচি নিয়েছেন হিমন্ত ও মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। এ দিন খানাপাড়ায় প্রশাসনিক পদাধিকারী মহাবিদ্যালয়ে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন সোনোয়াল ও হিমন্ত। পরে ধাপে ধাপে সব দলের বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলবেন তাঁরা।

বৈঠক শেষে হিমন্ত বলেন, ‘‘আগেরবার বাজেট পেশ করার সময় দুর্বল অর্থমন্ত্রী ছিলাম। ভাঁড়ার খালি ছিল। এ বার অনেক শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাজেট পেশ করব। রাজস্ব সংগ্রহ বেড়েছে। কেন্দ্র থেকেও এসেছে পর্যাপ্ত অর্থ। মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে বাজেটে।’’ বৈঠকে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহের বিভিন্ন উপায়, বাজেট রূপায়ণের বিভিন্ন ক্ষেত্র, জনতার কাজে আসবে এমন প্রকল্প হাতে নেওয়া, কাজে লাগছে না—এমন প্রকল্পগুলি বন্ধ করার উপায়, বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা ইত্যাদি নিয়ে বিশদে আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, ‘‘এই আলোচনা শেষ নয়, শুরু মাত্র। বিধায়কদের নিজের কেন্দ্রের অবস্থা ভাল করে পর্যবেক্ষণ করে, রাজস্বের উৎস চিহ্নিত করতে এবং নতুন ধরণের প্রকল্পের প্রস্তাব পেশ করতে বলা হয়েছে।’’ মুখ্যমন্ত্রী দলীয় বিধায়কদের বলেন, যে প্রকল্পগুলি মানুষের বেশি দরকার, সেগুলি দ্রুত রূপায়ণে মন দিতে হবে। প্রশাসনিক জটিলতা ও লাল ফিতের ফাঁস থেকে জনকল্যাণমুখী কাজকে মুক্ত করতে হবে। নিজের কেন্দ্রের সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার দায় বিধায়কের। তাঁদের হাল ছাড়লে চলবে না। সরকারের খামতি বা গাফিলতিও ধরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব বিধায়কদের। মন্ত্রীদের সংবেদনশীল ও তৎপর হতে হবে। সব কেন্দ্রের যুব প্রজন্ম, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরি করতেও নির্দেশ দেন তিনি।

সর্বানন্দের পরামর্শ, কেন্দ্রের পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এবং তৃণমূল স্তর পর্যন্ত মিশে এলাকার নাড়ি বুঝতে হবে। জানতে হবে মানুষ কী চাইছেন, কী পাচ্ছেন, কোথাও ক্ষোভ জমছে কিনা। আম জনতাকে বোঝাতে হবে, তাঁরাও এই সরকারের অঙ্গ। তাঁদের উপরে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বৈঠকে হাজির ছিলেন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (অর্থ) ভি বি প্যারেলাল, অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (পরিকল্পনা) কে ভি ইয়াপেন, অর্থ সচিব ও কমিশনার রবি কোটা।

budget Himanta Biswa Sarma
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy