মে মাসের মাঝামাঝি ইউরোপ যাওয়ার আগে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি কয়েক ঘণ্টার জন্য ছুঁয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আপাতত ওপেক ছাড়ার পর আমিরশাহির পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে সে দিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিদেশ মন্ত্রককে। সৌদি আরবের সঙ্গে আবু ধাবির মতবিরোধ কোন দিকে যাচ্ছে তার আগাম আন্দাজ পাওয়ার চেষ্টাও করা হচ্ছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, বিষয়টি নেহাতই ভূঅর্থনৈতিক সঙ্কট নয়, ভারতের কাছে ভূরাজনৈতিক সঙ্কটও।
এক কূটনৈতিক কর্তার মতে, আমিরশাহির সঙ্গে সৌদির সংঘাতের পর কোন রাষ্ট্র কত ব্যারেল তেল রফতানি করবে— এটাকেই মূল বিষয় হিসাবে ধরলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে হবে। এ-ও ভারতের হিসাবের মধ্যে রাখতে হচ্ছে যে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ইজ়রায়েল ও আমেরিকাপন্থী রাষ্ট্র হল আমিরশাহি এবং ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে তীব্র স্বরও তাদের। ইয়েমেনের মতো বেশ কিছু অঞ্চলের ভৌগোলিক অখণ্ডতা সংক্রান্ত সংঘাতে সৌদি ওআবু ধাবি বিবদমান। ফলে শান্তি না ফিরলে গোটা অঞ্চলটিই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে।
আরবের এই দুই রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ভারসাম্য ধরে রাখাও আগামী দিনে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেটা শুধুমাত্র অশোধিত তেলের আমদানি রফতানি সংক্রান্ত বিষয়কে ঘিরে নয়। এই দু’টি দেশেই ভারতীয় বংশোদ্ভূতের সংখ্যা বিপুল। শুধুমাত্র জ্বালানি নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দু’টি দেশের সঙ্গেই ক্রমবর্ধমান। অতি সম্প্রতি সৌদি এবং আবু ধাবির বিনিয়োগ বড় মাত্রায় আনার চেষ্টা চলছে। ফলে ওই অঞ্চলের ঐক্যে চিড় ধরার পর, দ্রুত কোনও পক্ষের দিকে না ঝুঁকে দ্বৈরথ কোন পথে এগোয় সেটাই দেখতে চাইছে নয়াদিল্লি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)