প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রসঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে কিছুটা বিরক্ত নয়াদিল্লি। তবে এখনই সরকারি ভাবে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া না দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাব দেওয়ার দাবিতে রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। তবে এই মুহূর্তে কোনও বিবৃতি না দিয়ে ‘সংযম’ দেখানোই শ্রেয় বলে মনে করছে দিল্লি। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার আমেরিকায় হাউস রিপাবলিকান মেম্বার রিট্রিট কর্মসূচিতে ভারত এবং মোদীকে নিয়ে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “স্যর, আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি বলে প্রধানমন্ত্রী মোদী আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।” মোদীর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গে ট্রাম্প যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তাতে দেশে সাধারণ জনতার মনেও অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। তবে দিল্লির বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদনে জানানো হচ্ছে, এ ধরনের ক্ষেত্রে কোনও প্রতিক্রিয়া ‘হিতে বিপরীত’ হতে পারে। সেই কারণেই দিল্লি মনে করছে এখনই ‘পাল্টা জবাব’ দিয়ে লাভ নেই। বিশেষ করে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। এ অবস্থায় আরও সংযমী এবং রাজনৈতিক বিচক্ষণতা দিয়ে বিষয়টি দেখতে চাইছে কেন্দ্র।
দিল্লির একটি সূত্র ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে বলেছেন, “আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কী বলছেন, তা নিয়ে প্রতি মুহূর্তে আমাদের ধারাভাষ্য দিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং বাণিজ্য আলোচনার দিকে আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত। সেটিকেই আমাদের আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”
আরও পড়ুন:
গত মঙ্গলবার ট্রাম্প নিজেই দাবি করেন, মোদী তাঁকে নিয়ে খুশি নন। তিনি বলেন, “তেলের উপর শুল্ক আরোপের কারণে বর্তমানে মোদী আমার উপর অখুশি।” বস্তুত, আমেরিকার নয়া শুল্কনীতি এবং ভারত প্রসঙ্গে আগেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গত বছরের অগস্টেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি নাকি মোদীকে বলে দিয়েছিলেন আমেরিকা ভারতের সঙ্গে কোনও বাণিজ্য করবে না। আবার অতীতে ভারত প্রসঙ্গে এমনও দাবি করেছেন, “আমরা আপনাদের উপরে এতটাই বেশি শুল্ক চাপাব যে আপনাদের মাথা ঘুরতে থাকবে।” এমনকি ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতিতেও আমেরিকার মধ্যস্থতা নিয়ে বার বার নিজের দাবি তুলে ধরেছেন তিনি। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ভারত জবাবও দিয়েছে। তবে সূত্রের দাবি, ট্রাম্পের বারংবার এমন দাবিতে সব ক্ষেত্রেই প্রতিক্রিয়া দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করছে ভারত।