আমেরিকা-ইরানের তুমুল সংঘাতের মধ্যেই প্রায় নিঃশব্দে তেহরান সফর সারলেন ভারতের উপ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পবন কপূর। সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি লারিজানির সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন পবন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হুমকি গিয়েছেন ইরানকে। জানিয়েছেন, হয় আলোচনায় ফিরুক দেশটি না হলে বড় রকমের আঘাতের জন্য প্রস্তুত হোক। এই মাসের গোড়ায় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ফোন করেছিলেন ইরানি বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি।
সূত্রের খবর, আমেরিকার রক্তচক্ষুর সামনে দাঁড়িয়ে চাবাহার বন্দর কী ভাবে ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে বিভিন্ন উপায়ের কথা ভাবছে নয়াদিল্লি। তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলে বাড়তি জরিমানা হিসাবে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। অথচ ইরানের দক্ষিণ উপকূলের চাবাহার বন্দর ভারত আর ইরান যৌথ ভাবে গড়ে তুলছে। একটি টার্মিনাল সম্পূর্ণ ভাবে ভারত পরিচালনা করে। এখানে ভারতের কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। পাকিস্তানকে এড়িয়ে ভারত মহাসাগরের মাধ্যমে আফগানিস্তান-সহ মধ্য এশিয়া, ইউরোপ ও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই বন্দর ভারতের কাছে কৌশলগত ভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উভয় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এই বিষয়গুলি নিয়েও।
এ দিকে, ইরানের উপরে চাপ বাড়াচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ও (ইইউ)। সংবাদ সংস্থার খবর, আজ ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসেন ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্রের বিদেশমন্ত্রীরা। পরে ইইউ-র শীর্ষ কূটনীতিক কায়া কালাস জানান, ইরানের ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-কে ‘জঙ্গি সংগঠন’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী অবশ্য বলছেন, “যে কোনও হামলার মোকাবিলা করতে আমরা সামরিক ভাবে প্রস্তুত।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)