আমেরিকায় মৃত্যুই হল ২২ বছরের ভারতীয় পড়ুয়া সাকেত শ্রীনিবাসাইয়ার। কর্নাটক থেকে আমেরিকায় পড়তে গিয়েছিলেন তিনি। ক্যালিফর্নিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিলেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রবিবার সকালে সান ফ্রান্সিস্কোয় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস থেকে সাকেতের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
মাদ্রাজ আইআইটিতে পড়তেন সাকেত। স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য আমেরিকায় গিয়েছিলেন। ক্যালিফর্নিয়া বার্কেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাসায়নিক ও বায়োমলিকিউলার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিলেন তিনি। কী ভাবে তাঁর মৃত্যু হল, এখনও স্পষ্ট নয়। ভারতীয় দূতাবাস কেবল সাকেতের দেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছে। কোথা থেকে দেহ পাওয়া গেল, মৃত্যুর কারণ বা ধরন কী, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। সাকেতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে দূতাবাস।
আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের কাছেই টিলডেন রিজিয়োনাল পার্কের সামনে থেকে সাকেতের ব্যাগ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তাতে তাঁর পাসপোর্ট এবং ল্যাপটপ ছিল। বন্ধুবান্ধবদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, শেষ বার তাঁকে দেখা গিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক কিলোমিটার দূরত্বে। তার পর কোথায় গেলেন, কেউ বলতে পারেননি। গত পাঁচ দিন তাঁর খোঁজে তন্ন তন্ন করে শহরে তল্লাশি চালায় ক্যালিফর্নিয়ার পুলিশ। এমনকি, আঞ্জা হ্রদ এবং নিকটবর্তী পার্বত্য এলাকাগুলিতেও চলছিল তল্লাশি অভিযান। পুলিশ তাঁর শারীরিক বর্ণনা দিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। তাতে বলা হয়, সাকেতের উচ্চতা ৬ ফুট ১ ইঞ্চি এবং তাঁর ছোট ছোট কালো চুল রয়েছে। চোখের মণির রঙ বাদামি। যুবক বিপদে পড়েছেন বলেও উল্লেখ করেছিল পুলিশ। কারও কাছে তাঁর সম্বন্ধে কোনও খবর থাকলে স্থানীয় থানায় জানাতে বলা হয়েছিল। সেই সূত্রেই সাকেতের দেহের সন্ধান মিলল কি না, স্পষ্ট নয়।
ভারতীয় দূতাবাস রবিবার সকালের পোস্টে লিখেছে, নিখোঁজ ভারতীয় ছাত্র সাকেত শ্রীনিবাসাইয়ার দেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। ওঁর পরিবার এবং প্রিয়জনদের এই কঠিন সময়ে আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। পরিবারকে সবরকম সাহায্য করবে ভারতীয় দূতাবাস। যত দ্রুত সম্ভব সাকেতের দেহ ভারতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে। পরিবারের সঙ্গে আমরা সরাসরি যোগাযোগ রেখেছি।’’ উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিদেশে পড়তে যাওয়া ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে লোকসভায় প্রশ্ন তুলেছিলেন সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, প্রবাসী ভারতীয় পড়ুয়াদের নিরাপদে রাখতে সরকার সবরকম পদক্ষেপ করেছে।