E-Paper

ট্রাম্প-নিরপেক্ষ বিদেশ ও অর্থনীতিতে নজর ভারতের

অন্য অনেক দেশের মতোই ভারতও তার বিপুল জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলির উপর নির্ভরশীল। ফলে অনিশ্চয়তার মোকাবিলা আরও দীর্ঘ দিন ধরে তাদের করতে হতে পারে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৫
(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উনিশ মিনিটের বক্তৃতায় পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ বন্ধের কোনও স্পষ্ট দিশা নেই। তিনি যা বলেছেন, তা অনেকাংশেই পুনরাবৃত্তি। এই অবস্থায় নয়াদিল্লির তরফে ঘরোয়া ভাবে জানানো হচ্ছে, এই সংঘাত কোন দিকে যাচ্ছে বা আমেরিকা কী ভাবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, তা নিয়ে কোনও দিশা বা স্পষ্ট বার্তা নেই ট্রাম্পের বক্তব্যে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার কি ট্রাম্প উল্লেখিত আরও কয়েক সপ্তাহের সময়সীমার সঙ্গে একমত? দ্বিতীয়ত, মাত্র কয়েক দিন আগেই হোয়াইট হাউস যে ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিল এবং ইরানকে তা গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছিল, তার কী হল? ট্রাম্পের বক্তৃতায় এরও কোনও উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

ঘটনা হল, অন্য অনেক দেশের মতোই ভারতও তার বিপুল জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলির উপর নির্ভরশীল। ফলে অনিশ্চয়তার মোকাবিলা আরও দীর্ঘ দিন ধরে তাদের করতে হতে পারে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। এমনকি ট্রাম্পের কথা মতো দু’ বা তিন সপ্তাহের মধ্যে যদি যুদ্ধ শেষও হয়ে যায়, তা হলেও শক্তি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে যে ধাক্কা লেগেছে, তা সামলাতে কত দিন লাগবে, কেউ জানে না। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, গ্যাস এবং তেলের বিধ্বস্ত পরিকাঠামোকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতেই বেশ কয়েক মাস লেগে যাবে। যুদ্ধের আগের অবস্থায়, অর্থাৎ শোধনাগারগুলিকে উৎপাদনের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে আরও কয়েক মাস। ফলে যুদ্ধ যদি এই মুহূর্তেও থেমে যায়, তা হলেও বাজারে তেলের দামের ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা ও বণ্টন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে এখনও সময় লাগবে।

কূটনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, ভারতের লক্ষ্য এখন ট্রাম্প-নিরপেক্ষ একটি মুক্ত বিদেশনীতি এবং অর্থনীতি তৈরি করা, যা এই ঝড়জল সহ্য করেও নিজের পায়ে খাড়া থাকতে পারবে। দীর্ঘ দিন ধরে ইরান বাদে আরবের দেশগুলির নিরাপত্তার ভার কার্যত নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল আমেরিকা। সে সূত্রে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে আরব দেশগুলির যোগদানের পিছনেও তাদের ভূমিকা ছিল। যুদ্ধের আবহে এ ‘মেকানিজ়মে’র উপর যে আর নির্ভর করা চলবে না, তা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তৃতায় স্পষ্ট বলে মত কূটনৈতিক মহলের।

বুধবার মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক ডেকে তাই প্রধানমন্ত্রী মোদী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলিকে নির্দেশ দেন, যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত্রগুলির মেরামতিকে অগ্রাধিকার দিতে। কিন্তু এর পরেও অনেক দীর্ঘ পথ হাঁটতে হবে বলেই মনে করছে বিদেশ মন্ত্রক। জ্বালানি কেনার প্রশ্নে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বিকল্প উৎসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমদানির অংশিদারী তৈরি হয়েছে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে। এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঝাঁপাবে ভারত। ইতিমধ্যেই ফ্রান্স ও কানাডার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার মুখে। রাশিয়ার সঙ্গেও সার, কয়লা, বিরল খনিজ নিয়ে বাণিজ্য আরও বাড়ানোর কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই গ্রীষ্মে ইউরোপের তিন দেশে সফর করে দ্বিপাক্ষিক শক্তি সমন্বয় ও বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। ভারতে যে অনুত্তোলিত তেলের ভান্ডার রয়েছে, সেগুলিকে যাতে কাজে লাগিয়ে দেশের চাহিদা কিছুটা মেটানো যায়, তার জন্য ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির কাছে আবেদন জানিয়ে রেখেছে কেন্দ্র। সেগুলিতে উত্তোলনের জন্য প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার কথাও ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি অসামরিক পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ানো নিয়েও কথা চলছে। চিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ভারসাম্য আনা, শক্তি সরবরাহ বজায় রাখতে অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরের মাঝামাঝি কূটনীতিকে বহাল করার কৌশল নেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত এই দু’টি দেশই বর্তমানে তাদের জ্বালানি নীতিতে বড় ধরনের রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে মূল লক্ষ্য হলো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে নবায়নযোগ্য বা কম কার্বন নিঃসরণ ঘটা শক্তিতে রূপান্তর। তবে ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক সম্পদের ভিন্নতার কারণে দু’টি রাষ্ট্রেরকৌশল ভিন্ন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Diplomacy Donald Trump

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy